Hidden Stories (বাংলা)

যুবভারতীর ‘বিদঘুটে’ মূর্তি ভাঙতেই বুক ফাটল মমতার! ২০ দিন পর লাইভে এসে বিজেপিকে এ কী বললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী?

কলকাতা: সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে থাকা দীর্ঘ বিতর্কিত সেই ‘বিদঘুটে’ মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হলো তীব্র চাপানউতোর। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব ভাবনা এবং নকশায় তৈরি হওয়া এই মূর্তিটি সরকার বদল হতেই সরিয়ে ফেলার ইঙ্গিত মিলেছিল নতুন শাসকদলের তরফে। সেইমতো গত শুক্রবার জেসিবি দিয়ে সেটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়। [TECHTARANGA-POST:9449]আর নিজের সাধের শিল্পকর্মের এই পরিণতি দেখে অবশেষে রবিবাসরীয় দুপুরে নীরবতা ভাঙলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুক লাইভে এসে এহেন সিদ্ধান্তে তিনি যে কতটা মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ, তা উগরে দিয়ে সরাসরি নিশানা করেছেন বর্তমান বিজেপি সরকারকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “আমার ওপর রাগ থাকতেই পারে, কিন্তু নিজেদের স্ট্যাচু বসাবেন বলে একটা শিল্পকর্ম এভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবেন?”[TECHTARANGA-POST:9428]গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আজ, ২৪ মে প্রায় ২০ দিন পর প্রথমবার ফেসবুক লাইভে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে পুরসভাগুলিতে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা নিয়ে মুখ খোলার পাশাপাশি যুবভারতীর মূর্তি ভাঙা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আমার খুব খারাপ লেগেছে। একজন নামী আর্টিস্টকে দিয়ে কাজটা করিয়েছিলাম, আর লোগোটা আমি নিজে এঁকেছিলাম। ছোট ছোট ভাই-বোনেরা, স্পোর্টস লাভাররা সেখানে গিয়ে সেলফি তুলতেন। যখন এ রাজ্যে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ হয়েছিল, তখন বিদেশি প্রতিনিধিরাও এই মূর্তির প্রশংসা করে গিয়েছিলেন। কিন্তু আজ শুধুমাত্র নিজেদের নামে স্ট্যাচু তৈরি করা হবে বলে সেটাকে নির্মমভাবে ভেঙে ফেলা হলো।”[TECHTARANGA-POST:9404]প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুবভারতী স্টেডিয়ামের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে বসানো ফুটবলের আদলে তৈরি এই অদ্ভুত আকৃতির মূর্তিটি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে আগে থেকেই নানা গুঞ্জন ছিল। বঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর যুবভারতীতে আইএসএলের হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচ দেখতে গিয়ে স্টেডিয়ামের সামনে এই মূর্তি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সেই সময়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যুবভারতীর মতো আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের ঐতিহ্য নষ্টকারী এই বিদঘুটে ও দৃষ্টিকটু মূর্তি সেখানে কোনওভাবেই রাখা হবে না। ক্রীড়ামন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুক্রবার সকালে মূর্তিটি ভেঙে সাফ করে দেয় প্রশাসন।[TECHTARANGA-POST:9444]বিজেপি অবশ্য মমতার এই ক্ষোভকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের পালটা দাবি, যুবভারতীর সামনে অলিম্পিক বা ক্রীড়াক্ষেত্রের সঙ্গে মানানসই কোনও বিশ্বমানের স্মারক তৈরি করা হবে, কোনও দলের ব্যক্তিগত প্রচারের কুৎসিত লোগো স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সামনে শোভা পায় না। তবে ছাব্বিশের মহাযুদ্ধে ক্ষমতা হারানোর পর পুরসভাগুলির ডামাডোল এবং নিজের আঁকা মূর্তির এই পরিণতি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে বেশ ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে, তা আজকের ফেসবুক লাইভের শরীরী ভাষা থেকেই স্পষ্ট। যুবভারতীর বুক থেকে মমতার স্মৃতি মুছে এবার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী সেখানে কীসের স্ট্যাচু বসান, এখন সেটাই দেখার।

যুবভারতীর ‘বিদঘুটে’ মূর্তি ভাঙতেই বুক ফাটল মমতার! ২০ দিন পর লাইভে এসে বিজেপিকে এ কী বললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার