বোলপুরের ফ্ল্যাটে রাতভর তল্লাশি, গভীর রাতে গ্রেফতার অনুব্রতের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল, নেপথ্যে কি বালি মাফিয়ার কালো টাকা?
বোলপুর: ফের টাকার পাহাড় আর বিপুল সোনার হদিশ মিলল বীরভূমে। দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে গভীর রাতে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশ। বোলপুরের রবীন্দ্রবীথি বাইপাস সংলগ্ন সায়গলের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা এবং ৮০০ গ্রাম খাঁটি সোনা। এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একশোরও বেশি জমির দলিল ও বিভিন্ন নামে-বেনামে থাকা বিপুল সম্পত্তির চাঞ্চল্যকর নথি, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব তদন্তকারীরা।শনিবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা সায়গলের ফ্ল্যাটে হানা দেন। তল্লাশি চালানোর সময় সায়গল নিজে ফ্ল্যাটেই উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশির পাশাপাশি তাঁকে দফায় দফায় ম্যারাথন জেরা করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তি এবং জমির দলিলের ব্যাপারে সায়গল কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, বরং তাঁর বয়ানে বারবার চরম অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই রাত তিনটের পর তাঁকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজই তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অনুব্রতের দেহরক্ষী হওয়ার সুবাদে বীরভূম জেলায় সায়গলের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিপত্তি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রভাব খাটিয়েই তিনি এলাকার কুখ্যাত পাথর ও বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডলকে কারবারে সাহায্য করতেন বলে মনে করা হচ্ছে। টুলুর বেআইনি টাকা ও বিপুল সম্পত্তি সায়গলের মাধ্যমে আড়াল করা হচ্ছিল কি না, উদ্ধার হওয়া ১০০-র বেশি দলিলের প্রকৃত মালিক কে এবং বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই সম্পত্তির আসল উৎস কী—সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জোরদার জেরা করতে চাইছে পুলিশ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ