এবার বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি! সই-বিতর্কে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, কী ফাঁস করলেন চন্দ্রনাথ সিনহা?
বোলপুর: রাজ্য রাজনীতিতে এবার এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করার গুরুতর অভিযোগে এবার সরাসরি তাঁদের অন্দরমহলে হানা দিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের রেজুলেশনে খোদ তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর আদৌ আসল নাকি নকল, তা খতিয়ে দেখতে বীরভূমের বোলপুরে তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার নায়েক পাড়ার বাড়িতে পৌঁছে গেলেন সিআইডি আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। তবে শুধু চন্দ্রনাথ সিনহাই নন, এই সই-বিতর্কের আঁচ পৌঁছেছে কলকাতার চৌরঙ্গি থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এবং বেলেঘাটাতেও।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৪ মে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসকদল থেকে আচমকাই প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। এরপর বিধানসভায় কে হবেন বিরোধী দলনেতা, তা চূড়ান্ত করতে ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে সেই নামের সপক্ষে জমা দেওয়া বিধায়কদের রেজুলেশন খাতা নিয়ে। অভিযোগ ওঠে, বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর সেখানে নকল বা জাল করা হয়েছে। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই এই সই-রহস্যের কিনারা করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে সিআইডি। ইতিমধেই চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্যানিং পূর্বের হারুল ইসলাম এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও হানা দিয়েছেন গোয়েন্দারা।এই হাইভোল্টেজ সিআইডি হানা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা। তবে তিনি ওই রেজুলেশনে নিজে সই করেছিলেন কিনা, তা স্পষ্ট না করলেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে, এই ধরণের নাটক করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেহেতু বিধানসভার সেক্রেটারি, তাই তিনি অনায়াসেই সব বিধায়কদের ডেকে সামনাসামনি জিজ্ঞাসা করে নিতে পারতেন যে তাঁরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে চাইছেন কিনা। তা না করে এভাবে মামলা রুজু করে মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেওয়া একেবারেই উচিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বিধায়ক জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন সিআইডি তাঁর বাড়িতে যায়, তখন তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং রাতে আধিকারিকরা আর আসেননি।আপাতত এই সই-বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া চরম উত্তপ্ত। বিরোধী দলনেতা হিসেবে জমা দেওয়া নথিতে খোদ দলেরই হেভিওয়েট বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে কেন এই সংশয় তৈরি হলো, আর সিআইডির এই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দৌড় শেষ পর্যন্ত কোন সত্য সামনে আনে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।[TECHTARANGA-POST:9577]হিডেন স্টোরিজ নিউজ