Hidden Stories (বাংলা)

Nana Patekar: অমলেট বানানো থেকে ক্যারমের আড্ডা, নানার কত গল্প! প্রয়াণের পর স্মৃতিতে ফিরে এল অভিনেতার অন্য রূপ

মুম্বই ও কলকাতাঃ নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বলিউড। প্রবীণ অভিনেতার মৃত্যুতে একের পর এক স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন তাঁর বন্ধু, সহকর্মী এবং পরিচিতরা। অভিনেতাকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শাহরুখ খান। বন্ধুকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। পাশাপাশি নানা পাটেকরকে ঘিরে নিজের একটি বিশেষ স্মৃতিও শেয়ার করেছেন স্মৃতি ইরানি।[TECHTARANGA-POST:13473]সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে শাহরুখ জানান, নানার সামনে গিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতে তিনি নিজের চুল ঠিক করছিলেন। তখন নানা তাঁর হাত সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “হিরোর মতো চুল সাজিও না... তুমি অভিনেতা।” শাহরুখের কথায়, নানা কখনও কাউকে খুশি করার জন্য কথা বলতেন না। তিনি যা মনে করতেন, সেটাই সরাসরি বলে দিতেন। শাহরুখের কথায়, “নানা, তোমার হাসি, পাগলামি আর ভালোবাসা সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবে। শুধু ইচ্ছে করছে, আরও কিছু কথা যদি বলা যেত, আরও একটা তর্ক, আরও এক কাপ চা আর ক্যারমের আরও একটা খেলা যদি হত!”শাহরুখ আরও লিখেছেন, “তুমি শুধু সিনেমার জগতেই নয়, ভারতীয়দের এবং গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে একটা শূন্যতা তৈরি করে গেলে। তোমাকে ভীষণ মনে পড়বে। স্বর্গ তোমাকে পেয়ে ধন্য হবে... এক অসাধারণ অভিনেতা এবং অপ্রতিরোধ্য ক্যারম চ্যাম্পিয়ন। তোমাকে ভালোবাসি এবং ভীষণ মনে পড়বে! এত তাড়াতাড়ি চলে গেলে, আমার হিরো! ভালো থেকো, নানা।” শাহরুখ খান ও নানা পাটেকর একসঙ্গে কাজ করেছিলেন ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ এবং ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ ছবিতে। নানার আকস্মিক প্রয়াণে গভীর ভাবে শোকাহত তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিঠুন চক্রবর্তীও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নানাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন নানা। তাঁর প্রয়াণে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।” নানার ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও কথা বলেছেন মিঠুন। তাঁর কথায়, এত বড় মাপের অভিনেতা হয়েও নানা ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ‘সাগর সঙ্গম’ ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তবে পর্দার বাইরেও দু’জনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল গভীর বন্ধুত্ব। নানার প্রয়াণে মিঠুনের কথায় তাই সহকর্মীর চেয়ে বন্ধুকে হারানোর কষ্টই বেশি স্পষ্ট।[TECHTARANGA-POST:13463]নানাকে ঘিরে নিজের একটি বিশেষ স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন স্মৃতি ইরানি। নানার সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে রয়েছে নানার রান্না করার একটি স্মৃতি। পর্দায় যাঁকে এতটা কঠিন ও তীব্র চরিত্রে দেখা যেত, ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর এই ঘরোয়া দিকটিই সেই স্মৃতিতে উঠে আসে। নানার রান্না নিয়ে আরও একটি মজার ঘটনা সামনে আনেনঅভিনেতা ও ব্লগার আশিস বিদ্যার্থী। সেখানে দেখা যায়, নানা নিজেই অমলেট তৈরি করছেন। অমলেট উল্টানোর ক্ষেত্রেও অবশ্য গতানুগতিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি নানা। স্প্যাচুলা দিয়ে সরাসরি উল্টে দেওয়ার বদলে প্যানের উপর একটি প্লেট রেখে অমলেটটি তাতে তুলে নেন। এরপর প্লেটটি ঘুরিয়ে অমলেটটি ফের প্যানে দিয়ে দেন।তাই নানা পাটেকরের প্রয়াণে শুধু তাঁর অভিনয় জীবন নয়, সামনে এসেছে তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা অজানা  দিক। বন্ধু, সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে তাঁর সরলতা, স্নেহ এবং একেবারে নিজস্ব জীবনযাপনের গল্প। 

Nana Patekar: অমলেট বানানো থেকে ক্যারমের আড্ডা, নানার কত গল্প! প্রয়াণের পর স্মৃতিতে ফিরে এল অভিনেতার অন্য রূপ