ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখা বাধ্যতামূলক, সব হাইকোর্টকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
নয়াদিল্লি: যেকোনও ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার নাম ও পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি দস্তুর হলেও, বাস্তবে তার প্রয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রতিটি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্যাতিতার পরিচয় সংক্রান্ত গোপনীয়তার নির্দেশ এবার থেকে কঠোরভাবে পালন করতে হবে।বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার রায়ে উল্লেখ করেছে, নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট ‘গাইডলাইন’ থাকা সত্ত্বেও সব ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। শীর্ষ আদালতের মতে, নিম্ন আদালতগুলির ঔদাসীন্য এবং সামাজিক কলঙ্ক নিয়ে সচেতনতার অভাবই এর প্রধান কারণ।সংশ্লিষ্ট রায়ে বলা হয়েছে, “নির্যাতিতার নাম ও পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি আইনত দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা সঠিকভাবে মেনে চলা হয়নি।”শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, গত মঙ্গলবারের এই রায়ের প্রতিলিপি দেশের প্রতিটি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতে হবে। এর উদ্দেশ্য হল, আদালতগুলি যাতে ভবিষ্যতে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতিরা অতীতে ‘নিপুণ সাক্সেনা বনাম ভারত সরকার’ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে নির্যাতিতার গোপনীয়তা রক্ষায় একাধিক বাধ্যবাধকতার উল্লেখ ছিল।একটি নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় এক অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মনে করে, ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সামাজিক কলঙ্কের বোঝা বইতে হয়। তাই তাঁদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসা রুখতে আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা অপরিহার্য।