শপথের আগেই পুলিশে নালিশ! বিজয় কি তবে ‘জাল’ কাগজে মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইছেন? নাকি দক্ষিণে কলকাঠি বিজেপিরই?
চেন্নাই: একদিকে বঙ্গে যখন আজ গেরুয়া ঝড়ের অভিষেক, ঠিক তখনই দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন ঘিরে তৈরি হল নজিরবিহীন বিতর্ক। বিধায়ক কেনাবেচার জল্পনা ছাপিয়ে এবার অভিনেতা তথা টিভিকে প্রধান থলপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে রাজভবনে ‘জাল সমর্থনপত্র’ জমা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় বিজয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের গুইন্ডি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি ও এডিএমকে শিবিরের সহযোগী দল এএমএমকে প্রধান টিটিভি দীনাকরণ।[TECHTARANGA-POST:8931]তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু, কোনও দলই সেই জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি। ১০৭ জন বিধায়ক নিয়ে একক বৃহত্তম দল বিজয়ের ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম’। কংগ্রেস ও বামেদের সমর্থন পাওয়ার পর বিজয় রাজভবনে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর সঙ্গে ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু, শনিবার এএমএমকে প্রধান টিটিভি দীনাকরণ বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “রাজ্যপালের কাছে বিজয় যে সমর্থনপত্র জমা দিয়েছেন তাতে আমার দলের বিধায়ক এস কামরাজের নাম রয়েছে। অথচ, কামরাজ আদৌ সই করেননি। এটি পুরোপুরি জালিয়াতি!”[TECHTARANGA-POST:8920]বিজয় শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে এদিনই দলিত দল ভিসিকের নেতা থল তিরুমালব্যন জানিয়েছেন, তাঁরা এখনও বিজয়কে সমর্থনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অথচ, বিজয় দাবি করেছিলেন ভিসিকের সমর্থন তাঁর পকেটে। এর ফলে ১১৭-র ‘ম্যাজিক ফিগার’ আদৌ বিজয়ের সঙ্গে আছে কিনা, তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হল। রাজভবন থেকে রাজ্যপাল বিশ্বনাথ আরলেকরও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের অকাট্য প্রমাণ ছাড়া তিনি কাউকে সরকার গড়তে ডাকবেন না।[TECHTARANGA-POST:8902]সাত দশকের দ্রাবিড় রাজনীতিকে টক্কর দিয়ে বিজয়ের উত্থান যতটা চমকপ্রদ ছিল, সরকার গঠনের এই আইনি জটিলতা ততটাই তাঁর ভাবমূর্তিকে সঙ্কটে ফেলেছে। পুলিশি তদন্তের মুখে কি থলপতি বিজয় শেষমেশ তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসতে পারবেন? নাকি জালিয়াতির অভিযোগে আটকে যাবে সুপারস্টারের রাজ্যাভিষেক? তামিল রাজনীতির এই ‘সাসপেন্স’ এখন তুঙ্গে।