ঢাকা: ভোটের ঠিক একটু আগেই আমেরিকার সাথে বড়সড় চুক্তি করলো বাংলাদেশে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই আমেরিকার সঙ্গে তড়িঘড়ি বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে ফেলল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির জেরে বাংলাদেশের উপর আমেরিকার আরোপিত শুল্ক কমে দাঁড়াল ১৮ শতাংশে। শুধু তাই নয়, আমেরিকার পণ্য ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি পোশাকের উপর শুল্ক পুরোপুরি শূন্য করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:6399]স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে কেন এমন তাড়াহুড়ো করে এত বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি? কেনই বা এই সময়েই হাত মেলালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনূস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের স্পষ্ট মত—এই ডিল নিছক অর্থনৈতিক নয়, এর পিছনে রয়েছে ভোটের অঙ্ক এবং ইউনূসের ব্যক্তিগত ক্ষমতার হিসাব।ভোটের আগে আমেরিকার তৎপরতা কেন?বাংলাদেশের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের নেপথ্যে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সরাসরি অভিযোগ করেছেন—ওয়াশিংটন নিজের কৌশলগত স্বার্থে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে এবং তার জায়গায় বসিয়েছে তাদের ঘনিষ্ঠ মহম্মদ ইউনূসকে।বাস্তব হল, অন্তর্বর্তী সরকার নয়—বাংলাদেশের মানুষ ভোট ও স্থায়ী সরকার চাইছিল। সেই চাপেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হন ইউনূস। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়।বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লিগ অনুপস্থিত। ফলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। অন্যদিকে, আমেরিকাপন্থী ও উগ্র মুসলিমপন্থী জামাত-ই ইসলামি-র জনসমর্থন তুলনায় অনেকটাই দুর্বল।আর এই জায়গাতেই চিন্তায় ওয়াশিংটন—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।জামাতকে এগিয়ে দিতেই কি এই চুক্তি?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জামাতকে পরোক্ষভাবে বার্তা দিতে চাইছে আমেরিকা। বোঝানো হচ্ছে—ওয়াশিংটনের সঙ্গে জামাতের সখ্য রয়েছে, ইউনূস তাদের ‘নিজের লোক’। বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পে অক্সিজেন দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয়ের কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প, আর তার সুফল ঘরে তুলতে চাইছেন ইউনূস।কৌশল সফল হলে ভোটের ময়দানে ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে বিএনপি—এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকেরা।এবং এই সমীকরণ ভারতের জন্যও সুখকর নয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান—জামাতের মতো ইসলামপন্থী শক্তির তুলনায় বিএনপিই তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। নরেন্দ্র মোদী সরকার কোনওভাবেই চায় না ঢাকায় জামাতের উত্থান হোক।ইউনূসের ব্যক্তিগত লাভ কোথায়?সমালোচকদের বক্তব্য, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন ইউনূস। আর সেই স্বাদ থেকে নিজেকে দূরে রাখা তাঁর পক্ষে সহজ নয়। ভোটের মুখে আমেরিকার সঙ্গে এই ডিল করে তিনি একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে চাইছেন, তেমনই নিজেকে অপরিহার্য নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন জনমানসে।[TECHTARANGA-POST:6385]শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি আদৌ বাংলাদেশের ভোটের রায় বদলাতে পারবে কি না, বিএনপির থেকে জামাত এগিয়ে যায় কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে এটুকু নিশ্চিত—ভোটের আগে এই বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।