ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় রাতভর রুশ ড্রোন–ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্ধকারে কিইভ
কিইভ: ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া—এমনটাই জানিয়েছে কিইভ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার ভোররাতে বিদ্যুৎ গ্রিড, উৎপাদন কেন্দ্র ও বিতরণ সাবস্টেশন লক্ষ্য করে ৪০০-র বেশি ড্রোন এবং প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:6347]চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে একের পর এক হামলায় ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো এমনিতেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তার মধ্যেই তীব্র শীত ও হিমাঙ্কের নিচে নামতে থাকা তাপমাত্রার সময় এই নতুন হামলা দেশটির বিদ্যুৎ খাতকে কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে ঠেলে দিয়েছে।সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া “কূটনীতির বদলে হামলাকেই বেছে নিচ্ছে” এবং ইউক্রেইনবাসীকে নতজানু করতে ঠাণ্ডাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।তবে এই হামলা নিয়ে মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে Reuters।ইউক্রেইনের জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল জানান, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাবস্টেশন এবং প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। টেলিগ্রামে তিনি বলেন,“নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুমতি দিলেই বিদ্যুৎ কর্মীরা মেরামতের কাজ শুরু করবেন।”ফেব্রুয়ারির তীব্র শীতের মধ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ইউক্রেইনের তাপমাত্রা মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।[TECHTARANGA-POST:6344]কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। শমিহাল আরও জানান, গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে পোল্যান্ড থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া সারা দেশজুড়েই হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিৎস্কাই, রিভনে, তের্নোপিল, ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক ও লভিভ অঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। বুরশতিন ও দব্রোৎভির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে।ইউক্রেইনের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা DTEK জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তাদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে এ নিয়ে দশমবার হামলা চালানো হল।লভিভ অঞ্চলের গভর্নর সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বিদ্যুৎহীন অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন এই অঞ্চলে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজেছে।এদিকে পোল্যান্ড জানিয়েছে, নিকটবর্তী ইউক্রেইনীয় অঞ্চলে রুশ হামলার সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। হামলা শেষ হলে বিমানবন্দর দুটির কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক করা হয়।[TECHTARANGA-POST:6337]উল্লেখ্য, ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরুর ঠিক আগেই এই ব্যাপক হামলা চালাল মস্কো—যা কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।