কলকাতা: নবান্নে বিজেপি সরকারের প্রথম কাজের দিনেই এক নজিরবিহীন দৃশ্য ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা শীর্ষ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালকে। বর্তমান প্রোটোকল অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের কোনও পদে না থেকেও কমিশনের কর্তার এই উপস্থিতি ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। তবে কি ভোট মিটলেই নবান্নে কোনও বড় দায়িত্বে আসছেন মনোজ?[TECHTARANGA-POST:8996]সোমবার নবান্নে দফায় দফায় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে সচিব পর্যায়, পরে জেলাশাসক এবং মন্ত্রিসভার বৈঠক — প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল কড়া নজরদারি। কিন্তু, আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন মনোজ আগরওয়াল। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সিইও পদের কোনও আধিকারিক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে পারেন না। এই ‘প্রোটোকল’ ভাঙার নেপথ্যে বড় কোনও সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছে নবান্নের একাংশ।[TECHTARANGA-POST:8975]২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভাকেন্দ্রে গোলমালের জেরে নির্বাচন বাতিল করেছিল কমিশন। আগামী ২১ মে সেখানে পুনর্নির্বাচন এবং ২৫ মে ফলপ্রকাশ। নবান্ন সূত্রের খবর, মনোজ যেহেতু এখনও রাজ্যের সিইও পদে আসীন, তাই ফলতার ভোটপর্ব না মিটলে তাঁকে নিয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা সম্ভব নয়। তাই, ২৫ মে-র পরই মনোজকে প্রশাসনের কোনও গুরুত্বপূর্ণ বা শীর্ষ পদে বসানো হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ জুলাই মনোজের কর্মজীবনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:8979]এই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে সম্প্রতি সুব্রত গুপ্তর নিয়োগ। এসআইআর পর্বে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার দিনই নিজের ‘উপদেষ্টা’ হিসাবে নিয়োগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কমিশনের কাজে খুশি হয়ে যেমন সুব্রতকে আনা হয়েছে, মনোজের ক্ষেত্রেও একই ছক অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:8953]মনোজ আগরওয়ালের এই উপস্থিতি নিয়ে নবান্ন বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে এই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আমলা মহলে গুঞ্জন তুঙ্গে। এখন দেখার, ফলতার ভোট মেটার পর ২৫ মে-র পর মনোজ অগ্রবালকে নবান্নের কোন নতুন সিংহাসনে দেখা যায়।