সোনারপুরে হামলার পর হাসপতালে অভিষেক, জরুরি বিভাগে চলছে চোখের চিকিৎসা, দেখতে ছুটলেন মমতা-লতা
কলকাতা: সোনারপুরে নিগৃহীত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শনিবার সন্ধ্যায় সোনারপুর থেকে সরাসরি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে পৌঁছোনোর পর তীব্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ঢোকার পরিস্থিতি ছিল না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। তাঁকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।হাসপাতাল ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুরে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ডিম-জুতো এবং চড়-ঘুসির দাপটে ভেঙে গিয়েছিল অভিষেকের চশমাটি। সেই চশমা ভাঙার সময়ই কাচ লেগে তাঁর চোখে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে অ্যাপোলোর জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর চোখের চিকিৎসা শুরু করেছেন। এছাড়া চড়-ঘুসির জেরে তাঁর শরীরেও বেশ কয়েকটি জায়গায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে চিকিৎসকদের জানিয়েছেন অভিষেক। চোখের প্রাথমিক চিকিৎসার পরই তাঁর বাকি শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যান করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।অভিষেক হাসপাতালে ভর্তি হতেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে। কালীঘাটের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অ্যাপোলো হাসপাতালে পৌঁছে সরাসরি জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই হাসপাতালে এসেছেন অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাড়া অভিষেককে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীও এই মুহূর্তে হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন।বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাদে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ি ঢোকার মুখে যে নজিরবিহীন হিংসার মুখোমুখি হতে হয়েছিল অভিষেককে, তার জের যে শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল পর্যন্ত গড়াবে, তা নিয়ে আশঙ্কা ছিলই। বর্তমানে হাসপাতালের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। তৃণমূল নেতার শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছেন চিকিৎসকরাও।