রাজনীতি তো মাঠের লড়াই, মনের নয়! উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী-শীর্ষণ্যর মিষ্টি হাসি ও সৌজন্যে মুগ্ধ ভোটাররা
নির্বাচনী লড়াই মানেই কি শুধু কাদা ছোড়াছুড়ি আর তপ্ত বাক্যবিনিময়? ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় সেই চেনা সংজ্ঞাকে ভুল প্রমাণ করল উত্তরপাড়া এবং আরামবাগ। রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াইকে ব্যালট বক্সের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রেখে বুথের বাইরে সৌজন্যের এক অনন্য নজির গড়লেন যুযুধান প্রার্থীরা।[TECHTARANGA-POST:8533] বুধবার সকালে উত্তরপাড়ার কানাইপুর নেতাজি স্কুলের বুথ থেকে বেরোনোর সময় সিপিএমের তরুণ ‘ক্যাপ্টেন’ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয় তৃণমূল প্রার্থী তথা কল্যাণ-পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একে অপরকে দেখে এড়িয়ে যাওয়া তো দূর অস্ত, বরং মীনাক্ষী নিজে এগিয়ে গিয়ে মিষ্টি হাসি বিনিময় করেন শীর্ষণ্যর সঙ্গে। ফেরার সময় চিরকালীন বাঙালির রীতি মেনে মীনাক্ষী যখন বললেন ‘আসছি’, শীর্ষণ্যও স্মিত হাসিতে তাঁকে বিদায় জানালেন। নন্দীগ্রাম থেকে উত্তরপাড়া— মীনাক্ষীর এই ‘ঘরের মেয়ে’ হয়ে ওঠার চেষ্টা যে কেবল ভোটের জন্য নয়, তা আজ তাঁর সহজ সৌজন্যেই স্পষ্ট।[TECHTARANGA-POST:8531]সৌজন্যের এই আবহাওয়া দেখা গিয়েছে আরামবাগের বুথেও। সেখানে সালেপুর-২ পঞ্চায়েতের বুথ পরিদর্শনে গিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হন তৃণমূলের মিতা বাগ এবং সিপিএমের বীথিকা পণ্ডিত। রাজনীতির আঙিনায় তাঁরা একে অপরের প্রবল প্রতিপক্ষ হলেও, দেখা হতেই দুজনে জড়িয়ে ধরলেন একে অপরকে। দুই মহিলা প্রার্থীর এই কুশল বিনিময় দেখে আপ্লুত বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররাও। [TECHTARANGA-POST:8524]উভয়েই একসুরে জানালেন, “আমরা মানুষ, আমাদের মধ্যে মানবিকতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। কে জিতবে আর কে হারবে তা ফলাফল বলবে, কিন্তু আমরা চাই ভোট শান্তিপূর্ণ হোক।” উত্তপ্ত আবহে ভাঙড় বা কালীঘাটের অশান্তির খবরের মাঝে উত্তরপাড়া ও আরামবাগের এই সৌজন্যের রাজনীতি সত্যিই বাংলার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যে এক পশলা শীতল বাতাসের মতো।