মৃত্যুঞ্জয়ী ১০ মাস! কেরলের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতাকে 'গার্ড অফ অনার'
তিরুঅনন্তপুরম: শোকের পাহাড় বুকে নিয়েও কীভাবে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তার এক অনন্য নজির গড়ল কেরল। মাত্র ১০ মাস বয়সেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে যাওয়ার আগে পাঁচ-পাঁচটি জীবনকে নতুন আলো দিয়ে গেল ছোট্ট আলিন শেরিন। রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা হিসেবে এই একরত্তিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অফ অনার' দিয়ে শেষ বিদায় জানাল পিনারাই বিজয়ন সরকার।[TECHTARANGA-POST:6537]গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল আলিন। মা ও দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কোচির হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও গত ১২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকরা আলিনের 'ব্রেন ডেথ'-এর কথা ঘোষণা করেন।সন্তান হারানোর অসহ্য যন্ত্রণার মুহূর্তেও এক মুহূর্ত দেরি করেননি বাবা অরুণ আব্রাহাম ও মা শেরিন আন জন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন আলিনের অঙ্গদানের।যকৃৎ (Liver): প্রতিস্থাপিত হয়েছে মাত্র ৬ মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে।কিডনি (Kidney): নতুন জীবন দিয়েছে ১০ বছরের এক কিশোরকে।সব মিলিয়ে মোট ৫ জনের শরীরে আলিনের অঙ্গ প্রাণ সঞ্চার করেছে।রাতের অন্ধকারে কপ্টার ওড়ানোর অনুমতি না মেলায় কোচি থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে তিরুঅনন্তপুরমে অঙ্গ পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ গ্রিন করিডোর। মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে সেই পথ অতিক্রম করে অ্যাম্বুল্যান্স। রবিবার পাথানামথিত্তা জেলার একটি গির্জায় আলিনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী। পুলিশের তরফে একরত্তি এই যোদ্ধাকে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ সম্মান 'গার্ড অফ অনার'।কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং অভিনেতা-রাজনীতিবিদ কমল হাসন এই দম্পতিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। কমল হাসন তাঁর শোকবার্তায় লিখেছেন, “আপনাদের সন্তান এখন পাঁচজনের মধ্যে বেঁচে থাকবে।” কেরলের ইতিহাসে আলিন এখন এক অমর নাম।