স্কুলের জমি হাতিয়ে টেনিস সেন্টার! তদন্তে নামতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে, সামনে এল দেবরাজের নয়া ‘কীর্তি’
কলকাতা: তোলাবাজির অভিযোগে গত সপ্তাহেই শ্রীঘরে গিয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। আর তিনি গারদে যেতেই যেন এক এক করে খুলতে শুরু করেছে দুর্নীতির ঝাঁপি। তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় এখন এই প্রভাবশালী নেতার একের পর এক কীর্তি। পুর এলাকায় নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কীভাবে তিনি দুর্নীতির জাল বুনেছিলেন, তা এখন স্থানীয়দের একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল খোদ স্কুলের জন্য বরাদ্দ জমি দখল করে টেনিস সেন্টার বানিয়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।[TECHTARANGA-POST:10627]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জমি একটি স্কুলের জন্য নির্দিষ্ট করা ছিল। কিন্তু শিক্ষার প্রসারের চেয়েও সেই বহুমূল্য জমির দিকেই নজর পড়েছিল তৎকালীন ‘প্রভাবশালী’ কাউন্সিলর দেবরাজের। অভিযোগ, দেবরাজের সরাসরি নির্দেশেই তাঁর দলবল ক্ষমতার জোর খাটিয়ে ওই জমিটি রাতারাতি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে স্কুলের ভবিষ্যৎকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয় একটি ঝাঁ-চকচকে টেনিস কোর্ট। এতদিন ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেবরাজের এই সমস্ত বেনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছেন সাধারণ বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই তাঁরা এই জমি দখলের বিষয়ে রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দ্বারস্থ হয়ে লিখিত নালিশও জানিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:10626]তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দেবরাজ। সেই প্রতিপত্তির জেরেই এলাকায় কার্যত সমান্তরাল শাসন চালাতেন তিনি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তাঁর সেই দুর্নীতির সাম্রাজ্যে ফাটল ধরতে শুরু করে। সম্প্রতি কেষ্টপুরের এক প্রোমোটার বাগুইআটি থানায় দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই জল বহুদূর গড়ায়। পুর এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ চালানো, তোলাবাজি এবং জমিজমা নিয়ে বেআইনি কারবারের এক লম্বা খতিয়ান উঠে আসছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, একুশের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলাতেও অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন এই নেতা। আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে রক্ষাকবচের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন দেবরাজ, কিন্তু দ্বিতীয়বারও উচ্চ আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।জন্মজয়ন্তীতে ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে শ্রদ্ধা জানালেন শমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরাঅবশেষে গত বুধবার রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে জালে জড়ান দেবরাজ। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আটটি মামলার ভিত্তিতে কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছে সিটের আট সদস্যের একটি বিশেষ দল। আধিকারিকদের অনুমান, স্কুলের জমি দখল তো কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। দেবরাজের দুর্নীতির জমি খুঁড়তে খুঁড়তে শিকড়টা ঠিক কত গভীরে পৌঁছেছে, এখন সেটাই দেখার।