রিল থেকে রিয়েল ইমোশন:বলিউডের যে চরিত্রগুলো আজও গায়ে কাঁটা দেয়
বলিউডের সঙ্গে দেশপ্রেমের সম্পর্ক বহু দশকের। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদান থেকে শুরু করে আধুনিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান—দেশরক্ষার আবেগ যখনই রূপোলি পর্দায় ফুটে উঠেছে, দর্শকরা তা সাদরে গ্রহণ করেছেন। উর্দি গায়ে কিংবা জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষায় যে অভিনেতারা পর্দায় অবিস্মরণীয় ছাপ ফেলেছেন:মনোজ কুমার : 'শহীদ' (১৯৬৫)-এ ভগৎ সিংয়ের চরিত্র থেকে শুরু করে 'উপকার' এবং 'পূরব অউর পশ্চিম'-এর মতো ছবিতে তাঁর দেশাত্মবোধক অভিনয় তাঁকে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে।সানি দেওল : ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধ অবলম্বনে তৈরি 'বর্ডার' ছবিতে মেজর কুলদীপ সিং চাঁদপুরীর ভূমিকায় সানি দেওলের গর্জন আজও দর্শকদের রক্তে অ্যাড্রেনালিন প্রবাহ বাড়ায়। 'গদর'-এর তারা সিং চরিত্রেও তাঁর স্বদেশপ্রেম সমান জনপ্রিয়।হৃতিক রোশন : লক্ষ্যহীন এক যুবকের সেনায় যোগ দিয়ে কার্গিলের দুর্গম চূড়া জয়ের গল্প তুলে ধরেছিলেন 'লক্ষ্য' ছবিতে। লেফট্যানেন্ট করণ শেরগিলের রূপান্তরের মাধ্যমে ভারতীয় সেনার শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন হৃতিক। ভিকি কৌশল : "হাও ইজ দ্য জোশ?"—এই এক সংলাপেই গোটা দেশকে এক সূত্রে বেঁধেছিলেন ভিকি। উরি হামলার প্রেক্ষাপটে মেজর বিহান শেরগিলের চরিত্র হোক বা দেশের প্রথম ফিল্ড মার্শাল শ্যাম মানেকশ-র বায়োপিক, বাস্তবসম্মত অভিনয়ে তিনি অনন্য ।সিদ্ধার্থ মলহোত্রা : ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের শহীদ পরমবীর চক্র প্রাপক ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার ভূমিকায় সিদ্ধার্থের আবেগঘন ও সাহসী অভিনয় চোখ ভিজিয়েছিল আপামর দর্শকের। "ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর"—সংলাপটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের নতুন মন্ত্র হয়ে ওঠে।অজয় দেবগন : স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিংয়ের চরিত্রে অজয় দেবগনের সংযত অথচ তীব্র অভিনয় জাতীয় পুরস্কার এনে দিয়েছিল। পরবর্তীতে 'এলওসি কার্গিল' ও 'ভুজ: দ্য প্রাইড অফ ইন্ডিয়া'-তেও তিনি দেশকে রক্ষা করার অদম্য লড়াই তুলে ধরেছেন।অক্ষয় কুমার : সন্ত্রাসবাদ দমন ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিতে অন্যতম জনপ্রিয় মুখ অক্ষয়। ১৮৯৭ সালের সারাগড়ির ঐতিহাসিক যুদ্ধে ২১ জন শিখ সেনার বীরত্বগাথা নিয়ে তৈরি 'কেশরী' ছবিতে তাঁর হাবিলদার ঈশ্বর সিং চরিত্রটি বিশেষ স্মরণীয়।রিল লাইফে এই অভিনেতাদের জীবন্ত অভিনয় একদিকে যেমন ভারতীয় সেনার অসীম সাহস ও আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানায়, অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষের মনেও জাগিয়ে তোলে গভীর জাতীয়তাবোধ।