কলকাতা: তৃণমূল জমানার অন্যতম প্রচারিত সরকারি প্রকল্প ‘সবুজসাথী’কে কেন্দ্র করে এবার বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পালচৌধুরী স্কুলে গিয়ে ‘সারথি’ প্রকল্পের নতুন লোগো ও উন্নতমানের সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি।
আর সেই সরকারি মঞ্চ থেকেই পূর্বতন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, এবার আর ভিনরাজ্য থেকে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এনে জোড়াতালি দেওয়া সাইকেল নয়, পশ্চিমবঙ্গেই গড়ে তোলা হবে সাইকেল উৎপাদনের বিশাল কারখানা, আর সেই শিল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি দেবে রাজ্য সরকার।
এদিন বক্তব্য রাখার সময় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় সাইকেলের গুণমান নিয়ে নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির ছায়া ছিল। তিনি দাবি করেন, “আগে পঞ্জাবের জলন্ধর থেকে সাইকেলের কলকব্জা ও যন্ত্রাংশ আনা হত। তারপর এখানে এনে সেগুলো একত্রীকরণ করা হত। আর সেই পুরো প্রক্রিয়ার বরাত পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এক আত্মীয় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিতরা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওড়ার মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর এই মন্তব্য সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারিক সদস্যদের দিকেই নিশানা করেছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তৃণমূল জমানার অপপ্রশাসনের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি সাইকেলের যন্ত্রাংশ সহজে খুলে যেত এবং অব্যবহারের কারণে সরকারি গুদামে পড়ে থেকে জং ধরত। সেই ঐতিহ্য বদলে রাজ্যকে উৎপাদনে স্বাবলম্বী করার ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু।
তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমরা সেই দুর্নীতির জায়গা থেকে প্রকল্পটিকে বার করে এনেছি। আগামী দিনে আমরা চেষ্টা করব যেন বাংলাতেই এই ধরনের সাইকেল তৈরি হয়। যে সমস্ত শিল্পগোষ্ঠী বা সংস্থা এ রাজ্যে কারখানা গড়তে চাইবে, সরকার তাদের বিনামূল্যে জমি দেবে এবং তাদের থেকেই এই উন্নতমানের সাইকেল কেনা হবে।”
একই সঙ্গে প্রকল্পের পরিকাঠামোতেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। আগে যেখানে নবম শ্রেণিতে উঠলে পড়ুয়ারা সাইকেল পেত, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই বিনামূল্যে সাইকেল।
পাশাপাশি, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, স্কুলগুলিকে ‘স্মার্ট স্কুল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, পড়ুয়াদের দেওয়া হবে ‘স্মার্ট ট্যাব’ এবং চালু হবে এনসিসি প্রশিক্ষণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবধান মুছে ফেলে স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের সাথেই মধ্যাহ্নভোজে (মিড-ডে মিল) শামিল হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের পাতে ছিল সাধারণ ভাত, ডাল, সয়াবিন-আলু-বড়ির তরকারি ও টম্যাটোর চাটনি। দুর্নীতি মুছে ফেলে রাজ্যেই উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের এই নতুন মডেল দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যে তৃণমূলের প্রাক্তন জমানাকে আরও একবার রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করলেন, তা বলাই বাহুল্য।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন