Hidden Stories (বাংলা)

Jadavpur University: এবার ক্যামেরার নজরদারিতে যাদবপুর! বড় পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের

কলকাতা: বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে এবার শতভাগ নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার চরম সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সিসি ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে ক্যাম্পাসের কোথাও আর লুকিয়ে থাকার জো রইল না। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনতে এবার শুরু হচ্ছে বিশেষ অডিট। আগামী সপ্তাহ থেকেই ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে অডিটের কাজ শুরু হবে, যা নিশ্চিত করবে ঠিক কোথায় কোথায় নতুন সিসি ক্যামেরা বসানো প্রয়োজন। পাশাপাশি শুধু ক্যামেরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন গলি থেকে শুরু করে মূল রাস্তার আলোও বাড়াতে চলেছে কলকাতা পুরসভা।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা মিলিয়ে প্রায় ৭০টি সিসি ক্যামেরা সক্রিয় রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, এতেও গলদ থেকে যাচ্ছে। রেজিস্টার দেবজিৎ দত্তের কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো কোণ যেন বাদ না থাকে, যা ক্যামেরার নজরদারির বাইরে থেকে যায়। বিশেষ করে প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ ভবন, অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকা এবং স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে বেশি সংখ্যায় হাই-টেক ক্যামেরা বসানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে অর্থাভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সহায়তার আশ্বাস মিলতেই তড়িঘড়ি এই অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:12667]ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা বসানো নিয়ে যাদবপুরের ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। ২০২৩ সালের অগস্টে মেন হস্টেলে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তার দাবি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু বারবার পড়ুয়াদের একাংশের চরম বিরোধিতার মুখে পড়ে থমকে যেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। গত বছরের ডিসেম্বরে আবার অর্থকষ্টের কারণেও স্তব্ধ হয়ে যায় এই প্রক্রিয়া। কিন্তু গত ১৯ অগস্ট সন্ধ্যায় দু’দল ছাত্রের সংঘাত এবং তার জের ধরে মধ্যরাতে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালনোর ঘটনার পরেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। শিক্ষামহলের মতে, সেই ঘটনার পর থানা-পুলিশ হতেই এবার নড়েচড়ে বসেছেন কর্তৃপক্ষ।নিরাপত্তার খাতিরে ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসে বহিরাগত বা অহেতুক জমায়েত রুখতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা দিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাত ৮টার পর ক্যাম্পাসের ভেতর কোনো রকম আড্ডা বা জমায়েত বরদাস্ত করা হবে না। জনসাধারণের হাঁটার বা প্রাতঃভ্রমণের রাস্তা হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না শিক্ষা প্রাঙ্গণকে। যদিও রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন, পড়ুয়াদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা বা মুক্ত বাতাসে বাধা দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, তবে সুরক্ষার প্রশ্নে এখন থেকে শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনেই চলবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Jadavpur University: এবার ক্যামেরার নজরদারিতে যাদবপুর! বড় পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের