Hidden Stories (বাংলা)

Visva Bharati: ধ্রুপদী বাংলার জাতীয় সদর দফতর এবার শান্তিনিকেতন! বিশ্বভারতী পেল উৎকর্ষ কেন্দ্রের তকমা

শান্তিনিকেতন: ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষার প্রসারে যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয় স্তরে ধ্রুপদী বাংলা চর্চা ও গবেষণার প্রধান কেন্দ্র বা ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে বেছে নেওয়া হলো বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশিকা মেনে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগকে। ফলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনই এখন থেকে হয়ে উঠতে চলেছে ধ্রুপদী বাংলা ভাষা গবেষণার জাতীয় সদর দফতর। শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে বাংলা ভাষার বিশ্বায়নে এক অনন্য মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্বভারতীর এই নতুন তকমা কেবল মর্যাদার লড়াইয়ে জয় নয়, বরং এর মাধ্যমে বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণার এক বিপুল দুয়ার উন্মুক্ত হতে চলেছে। এই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে ইউজিসি প্রবীণ গবেষকদের জন্য একটি বিশেষ ‘প্রফেশনাল চেয়ার’ তৈরি করবে, যার মাধ্যমে অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদরা সরাসরি জাতীয় স্তরের অগ্রণী বিদ্যাচর্চায় নেতৃত্ব দেবেন। এর পাশাপাশি বাংলা ভাষায় অনন্য অবদানের জন্য গুণীজনদের প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানের বার্ষিক সম্মান প্রদান করা হবে, যা সরাসরি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের সমতুল্য গুরুত্ব পাবে।[TECHTARANGA-POST:13265]অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসা প্রাচীন পুথি, দুষ্প্রাপ্য ঐতিহাসিক দলিল ও বইপত্র আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত যেকোনো গবেষক এক ক্লিকেই বাংলার অমূল্য সম্পদ হাতে পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য ভারতীয় ভাষা ও বিদেশি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বই বাংলায় অনুবাদ এবং বাংলা গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ সাহায্য পাঠাবে সরকার। ইতিহাস, দর্শন, সংগীত ও নৃত্যের সঙ্গে আন্তঃবিদ্যায়তনিক চর্চাও জোরদার হবে।সবচেয়ে বড় খবর হলো, এই কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হতে চলেছে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। অনুবাদ, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পুথি সংরক্ষণ, শিক্ষকতা এবং সাংস্কৃতিক গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন পদ সৃষ্টি হতে চলেছে। এই অভূতপূর্ব প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগ জানিয়েছে, গুরুদেবের আদর্শ মেনেই এই দায়িত্ব পালনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। সব মিলিয়ে, শান্তিনিকেতনের মাটিকে কেন্দ্র করেই শুরু হতে চলেছে বাংলা সাহিত্য ও ভাষার পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায়।

 Visva Bharati: ধ্রুপদী বাংলার জাতীয় সদর দফতর এবার শান্তিনিকেতন! বিশ্বভারতী পেল উৎকর্ষ কেন্দ্রের তকমা