বিরাট ধাক্কা বড় ক্লাবগুলোর! দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও চমকে দেওয়া ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
কলকাতা: বঙ্গে পালাবদল ঘটতেই এবার রাজ্যের সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে এক যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া একাধিক ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এর পর থেকেই রাজ্যের হাজার হাজার ক্লাব কর্তাদের মনে তীব্র সংশয় আর প্রশ্ন দানা বেঁধেছিল যে, তবে কি এবার বন্ধ হতে চলেছে দুর্গাপুজোর লক্ষাধিক টাকার সরকারি অনুদানও? সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের এক অনুষ্ঠান থেকে পুজো অনুদান নিয়ে সরকারের নতুন ও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, সরকারি খয়রাতির দিন শেষ, এবার থেকে আর সব ক্লাব ঢালাও পুজো অনুদান পাবে না![TECHTARANGA-POST:9894]মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে এবার থেকে পুজো কমিটির ফান্ডের ওপর ভিত্তি করেই অনুদান দেওয়া হবে। নিউটাউনের সভা থেকে তিনি বলেন, “যাঁরা মূলত সরকারি ওই টাকার ওপর ভিত্তি করেই কোনোমতে পুজোর আয়োজন করেন, অর্থাৎ ছোট ও বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলো, তাঁরা অবশ্যই অনুদান পাবেন। কিন্তু যাদের কোনো প্রয়োজন নেই, তাঁরা এক পয়সাও পাবেন না।” অর্থাৎ কলকাতার নামী এবং বড় বড় ক্লাবগুলো, যাদের পুজোর বাজেট কয়েক কোটি টাকা এবং যারা স্পন্সর ও বিজ্ঞাপনের থিকথিকে ভিড়ে ভাসে, তারা এবার থেকে সরকারি অনুদানের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়তে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় বড় ক্লাব কর্তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেও, ছোট পুজো কমিটিগুলো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে।[TECHTARANGA-POST:9893]প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জমানায় ২০১৮ সালে প্রথম ক্লাবগুলোকে পুজো অনুদান দেওয়ার প্রথা শুরু করেছিলেন। প্রথম বছর প্রতিটি ক্লাবকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও, বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ও সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতি বছরই এই অর্থের পরিমাণ বাড়িয়েছেন তিনি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও রাজ্যের প্রায় সব ক্লাবকে এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল, যা রাজ্যের কোষাগারে এক বিরাট আর্থিক বোঝা চাপিয়েছিল। কোটি কোটি টাকার বাজেট থাকা ক্লাবগুলোকে কেন সাধারণ করদাতার টাকা বিলানো হবে, তা নিয়ে জনমনেও বিস্তর ক্ষোভ ছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবার সেই বিতর্কিত প্রথাতেই বড়সড় কোপ মারলেন।[TECHTARANGA-POST:9891]শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজকোষের টাকা অনৈতিকভাবে বিলানো তিনি বরদাস্ত করবেন না। তবে বড় ক্লাবগুলির অনুদান ছাঁটাই করা হলেও, গ্রামীণ ও ছোট পুজো কমিটিগুলোকে সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, বড় ক্লাবগুলোর খয়রাতি বন্ধ হলেও এই নতুন ও স্বচ্ছ নিয়মের কারণে এবার বাংলায় প্রকৃত এবং ছোট পুজোর সংখ্যা আরও অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে, পরিবর্তনের বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো আসার আগেই শুভেন্দুর এই মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য রাজনীতি এবং ক্লাব সংস্কৃতির সমীকরণ যে চিরতরে বদলে দিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।