কলকাতা: এপ্রিলের তপ্ত রোদে যখন ভোটের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক তখনই খাস কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির ম্যারাথন তল্লাশিতে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। বুধবার সকাল থেকে শহরের ছ'টি জায়গায় একযোগে হানা দিয়ে এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বালিগঞ্জের কুখ্যাত ডন বা 'ত্রাস' হিসাবে পরিচিত সোনা পাপ্পুর। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও।জমি দখল সংক্রান্ত মামলার তদন্তে নেমে বুধবার সাতসকালে ইডি হানা দেয় বালিগঞ্জ ও কাঁকুলিয়া রোড এলাকায়। তল্লাশি চলে সোনা পাপ্পু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাহুল দাসের বাড়িতে। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলে সোনা পাপ্পুর ছায়াসঙ্গী হিসাবে পরিচিত নির্মাণ ব্যবসায়ী জয় কামদারের ডেরায়। ইডি সূত্রে খবর, জয় কামদারের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে নগদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এই বিপুল টাকার উৎস কী, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে মিলেছে আগ্নেয়াস্ত্র, যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।এই উদ্ধারকাণ্ডের পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, "এই টাকা তৃণমূলের।" তাঁর দাবি, জয় কামদারের সঙ্গে দেবাশিস কুমার বা জাভেদ খানের মতো শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শাসকদলের একাধিক অনুষ্ঠানে ওই ব্যবসায়ীর উপস্থিতি সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে।তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার পালটা যুক্তিতে বলেন, "নিজেদের লাভের জন্য অনেক সময় সমাজবিরোধীরা শাসকদলের আশেপাশে ভিড় করে। এটা সারা ভারতেই হয়। কিন্তু, আমাদের নেতারা সোনা পাপ্পুর লোকজনকে মদত দেন বলে আমি মনে করি না।" উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাঁকুলিয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষেও সোনা পাপ্পুর নাম জড়িয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ তাঁকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।ভোটের ঠিক আগে কলকাতার বুক থেকে উদ্ধার হওয়া এই 'কালো টাকা' কি কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলের অংশ?
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার