সব্যসাচীর ‘বান্ধবী’ তকমায় ক্ষুব্ধ টিনা! ৩ কেজি সোনা উদ্ধার নিয়ে মুখ খুললেন নেত্রী
নদিয়া: রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি এবং তাঁর পৈতৃক বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন নদিয়া জেলা পরিষদের প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহা। তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে ‘বান্ধবী’ তকমা দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজনীতিতে কোনও মহিলা নির্দিষ্ট কোনও মতাদর্শ অনুসরণ করলে বা কোনও নেতার অধীনে কাজ করলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট নেতার ‘বান্ধবী’ বলে দেগে দেওয়া যায় না। এই ধরণের মানসিকতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার পক্ষে সওয়াল করেছেন এই নেত্রী।[TECHTARANGA-POST:10553]গত সপ্তাহে বিধাননগর এবং করিমপুর থানার যৌথ পুলিশ বাহিনী সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে নদিয়ার করিমপুরে টিনার পৈতৃক বাড়িতে এক ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই অভিযানে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। তল্লাশির সময় টিনা নিজে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে টিনা ভৌমিক সাহা জানান, তিনি অনুপস্থিত থাকাকালীন পুলিশ কাকে নিয়ে এসে কী তল্লাশি চালিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ আইনের ব্যাপার এবং এই নিয়ে তিনি আদালতে বা আইনের মাধ্যমেই কথা বলবেন। তবে একজন শিক্ষিকা ও সমাজকর্মী হিসেবে সমাজে মাথা উঁচু করে চলার অধিকার তাঁর আছে এবং এই ধরণের কুৎসা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার বলে তিনি দাবি করেন।[TECHTARANGA-POST:10551]তদন্তকারীদের দাবি, তোলাবাজির কালো টাকা সাদা করতেই বিপুল পরিমাণ সোনা কিনে রাখা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সব্যসাচী দত্ত ও তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা গচ্ছিত ছিল। এই বিপুল অঙ্কের টাকার ও সোনার প্রকৃত উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতেই সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা টিনার বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। টিনা ভৌমিক সাহার মতে, দলের শীর্ষ নেতারা দুর্নীতিতে যুক্ত হলে নীচের স্তরের কর্মীদের সেই কলঙ্কের ভাগীদার করা বা তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই হাই-প্রোফাইল মামলার জল আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায় এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।