পুরুলিয়া: বাঁকুড়া, বীরভূম ও পুরুলিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালি, পাথর ও কয়লা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে এবার এক বিশাল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য থেকে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানি প্রথা উপড়ে ফেলতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ওপর জোর দিয়ে পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা—রাজ্যের সমস্ত বালিঘাটকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে বৈধ করা হবে। এর ফলে যেমন বেআইনি লেনদেন বন্ধ হবে, ঠিক তেমনই সরকারি কোষাগারে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়ন্ত্রণে আসবে বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য বালির দাম।
পুরুলিয়া সফরে গিয়ে জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় সরাসরি আমজনতার দিকেই তোলাবাজি বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাস্তায় হাত পাতা, গো-পাচার, বেআইনি কয়লা ও বালি পাচার বন্ধ হয়েছে কি না, তা সাধারণ মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।” এর পাশাপাশি বাজারে বালির বর্ধিত দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, “বালিঘাট সংক্রান্ত পরিকাঠামো দ্রুত রেগুলারাইজ বা নিয়মমাফিক করা হচ্ছে। অবৈধ লেনদেন বন্ধ করে সরকারের ঘরে রাজস্ব এলে তবেই তো সেই অর্থ জনকল্যাণমুখী কাজে লাগানো সম্ভব।” প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও পশ্চিমবঙ্গ আবাসে বাড়ি তৈরির সুবিধার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যজুড়ে ৩০ লক্ষ সরকারি পাকা বাড়ি উপহার দেওয়া হবে এবং আবাসের বাড়ি বানানোর জন্য বালি কেনার ক্ষেত্রে পরিবার পিছু ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে সহায়তা মিলবে।
নিজের ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সরকারি বাড়ি পাওয়ার জন্য বা কোনো কাজের ক্ষেত্রে কেউ যদি ১ টাকা কাটমানি বা ঘুষ চায়, তবে সরাসরি আমাকে খবর দেবেন। নতুন প্রশাসনে কোনো সিন্ডিকেট বা তোলাবাজি চলবে না।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূল আমলের কোটি কোটি টাকার বালি-পাথর পাচার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বীরভূমের মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বিশাল সাম্রাজ্য ফাঁস হওয়ার পর, সমস্ত বালিঘাটকে সরকারি আওতায় আনার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মহাপরিকল্পনা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন