দেশে তেলের আকাল, তার মাঝেই ডিজেল ও বিমানের জ্বালানিতে ট্যাক্স কমাল কেন্দ্র! বাড়ল কীসে?
নয়াদিল্লি: দেশে যখন পেট্রল-ডিজেলের তীব্র সঙ্কট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দেশের পেট্রলিয়াম রিজার্ভের অবস্থা নিয়ে নানাবিধ গুজব-আতঙ্ক ছড়াচ্ছে — ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে সঙ্কটের আবহেই হঠাৎ ডিজেল এবং বিমানের জ্বালানির (ATF) রফতানি শুল্ক বা ট্যাক্স এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিল কেন্দ্র। তবে, একইসঙ্গে আবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পেট্রলের রফতানি কর।[TECHTARANGA-POST:9187]সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার থেকেই ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির উপর এই নতুন সংশোধিত রফতানি কর কার্যকর হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগে ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে শুল্ক বা ট্যাক্স ছিল ২৩ টাকা, যা এক ধাক্কায় কমিয়ে করা হয়েছে ১৬.৫ টাকা। অন্যদিকে, বিমান জ্বালানির উপর প্রতি লিটারে রফতানি শুল্ক ৩৩ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ১৬ টাকা। তবে, পেট্রলের ক্ষেত্রে উল্টো পথ হেঁটে শুল্ক ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে পেট্রলে রফতানি শুল্ক দাঁড়িয়েছে লিটারপিছু ১৬.৫ টাকা।[TECHTARANGA-POST:9186]উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। একাধিক দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু, সেই সময় ভোটমুখী ভারতে প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে তেলের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটেনি কেন্দ্র। কিন্তু, ভোটপর্ব মেটার ঠিক পরপরই, গত শুক্রবার থেকে ভারতের বাজারেও অগ্নিমূল্য হয়েছে পেট্রল ও ডিজেল।[TECHTARANGA-POST:9185]কলকাতায় পেট্রলের দাম লিটারপিছু দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৪ টাকা। অন্যদিকে ডিজেলের দাম লিটারপিছু এক লপ্তে ৩ টাকা বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ৯৫.১৩ টাকায়। এখানেই শেষ নয়, এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সিএনজি-র দামও। যা মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। [TECHTARANGA-POST:9183]স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, দেশের অন্দরেই যখন পেট্রলিয়াম পণ্যের টান এবং সাধারণ মানুষ চড়া দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে, তখন রফতানি শুল্ক কমিয়ে কোম্পানিগুলিকে আরও বেশি করে বিদেশে পেট্রপণ্য পাঠাতে কেন উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে?[TECHTARANGA-POST:9182]সরকারি সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য একটি বড় কারণ রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভারতের ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়ছিল। মূলত, সেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে বড়সড় আর্থিক লোকসান থেকে বাঁচাতে এবং কিছুটা স্বস্তি দিতেই কেন্দ্র আপাতত এই ব্যালেন্সিং বা সমন্বয় নীতি নিয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্তের পর দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সঙ্কট কতটা কাটবে, সেটাই এখন দেখার।