কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পিএইচডি ভর্তি প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হল চরম বিতর্ক। কয়েকজন আবেদনকারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠার পর গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য এবার বিশেষ গবেষণা কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনিক স্তরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অস্বচ্ছতা অবলম্বন করা হয়নি এবং তথ্য গোপনের যে জোরালো অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার সিংহভাগই আসলে ভিত্তিহীন।[TECHTARANGA-POST:9353]সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পিএইচডি-র ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই ঝামেলার সূত্রপাত। মেধাতালিকা প্রকাশের পর তিন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে সরাসরি উপাচার্যের দফতরে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রার্থীদের মধ্যে একজন ২০১৮ সালে এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অন্য একটি বিষয়ে পিএইচডি-র আবেদন করেছিলেন এবং তাঁর রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু, তিনি সেই গবেষণা শেষ করেননি। দ্বিতীয় এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সম্প্রতি একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করলেও সেখানে শেষ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করাননি এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফের যাদবপুরে আবেদন করেন। অভিযোগকারী ছাত্রদের মূল প্রশ্ন, তথ্য গোপন করা এক প্রার্থীকে বাতিল না করে কেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে নথিপত্র পেশের জন্য বাড়তি ১০ দিন সময় দেওয়া হল? তাঁরা অভিযুক্তদের আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:9352]অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ আধিকারিক এই অভিযোগের সারবত্তা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী পিএইচডি-তে ভর্তি হওয়ার ৫-৬ বছর পর যদি কাজের কোনও ধারাবাহিকতা না থাকে, তবে পূর্বতন রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এমনিতেই বাতিল হয়ে যায়। যেহেতু ২০১৮ সালের ওই প্রার্থীর ক্ষেত্রেও মেয়াদের সময়সীমা পার হয়ে গিয়েছে, তাই এটি তথ্য গোপন বা অনিয়মের পর্যায়ে পড়ে না।[TECHTARANGA-POST:9350][TECHTARANGA-POST:9350]ওই প্রার্থীও বৃহস্পতিবার নিজে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, "আমি ২০১৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম, সেই তথ্য কখনও লুকোইনি। ফর্ম পূরণের সময় এমন তথ্য দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট কলাম থাকে না, বরং ভর্তির সময় একটি মুচলেকা বা ডিক্লেয়ারেশন দিতে হয়।" তিনি আরও জানান, নথিপত্র যাচাইয়ের সময়ই পিএইচডি সেল তাঁকে জানিয়েছিল যে পুরনো রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে এবং কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি থাকার কারণেই তাঁকে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। সমস্ত নিয়ম মেনে মুচলেকা নিয়ে তৈরি থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে ঠিক কী কারণে তাঁর ভর্তি স্থগিত রাখা হল, সেই বিষয়ে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট কোনও উত্তর দেয়নি।[TECHTARANGA-POST:9349]বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশের মতে, নীতিগত এবং আইনি দিক থেকে এই টানাপড়েনের সুষ্ঠু মীমাংসা করতে এখন একমাত্র ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা কমিটি। তারাই এই গোটা স্ক্রিনিং ও অভিযোগ পর্বের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করবে। অন্যদিকে, সাধারণ পড়ুয়াদের একাংশ এখনও কর্তৃপক্ষের এই বাড়তি সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অনড় রয়েছেন।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার