'তুমি পারবে না, আমাকেই করতে হবে', জেরায় উঠে এল সিয়া-চেতনের খুনের ভয়ঙ্কর ছক
পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের নামে হবু স্বামী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। পুলিশের তদন্তে এবার জানা গিয়েছে, এটি কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং কেতনকে হত্যা করার জন্য আগেই একাধিকবার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল। তবে প্রথম দু'বার ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত খুনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সিয়ার প্রেমিক চেতন।[TECHTARANGA-POST:10291]পুলিশ সূত্রে খবর, কেতনকে হত্যার এটি ছিল তৃতীয় চেষ্টা। এর আগে দু'বার সিয়া তাঁকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল খাদে ফেলে দেওয়া। কিন্তু সাহসের অভাব বা সুযোগের অভাবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। জেরায় সিয়া জানিয়েছেন, ১৪ জুন দ্বিতীয়বারও ব্যর্থ হওয়ার পর চেতন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি সিয়ার সামনে কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, "তুমি পারবে না। যা করার আমাকেই করতে হবে।" এরপর ১৮ জুন ফের লোহাগড় দুর্গে যান কেতন ও সিয়া। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন চেতন। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা পরিকল্পনা আগেই ঠিক করা ছিল। কেতনকে ধাক্কা দেওয়ার উপযুক্ত সময় এলে সিয়া একটি নির্দিষ্ট ইশারা করবেন। সেই অনুযায়ী সিয়া বসে পড়তেই চেতন পিছন থেকে কেতনকে খাদে ধাক্কা দেন। আচমকা এই হামলায় কিছু বুঝে ওঠার সুযোগই পাননি কেতন।[TECHTARANGA-POST:10290]পুলিশের আরও দাবি, কেতনকে সরিয়ে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সিয়ার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে চাইছিলেন চেতন। এমনকি মহাবালেশ্বরে একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন তাঁরা। গ্রেফতারের পর প্রথমদিকে সিয়া ও চেতন একে অপরের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দু'জনেই নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরে সিয়া ও কেতনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই বিয়ের জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য প্রাইভেট জেটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেই ধুমধাম করে বাগদান সারেন দু'জন। কিন্তু বিলাসবহুল সেই বিয়ের প্রস্তুতির আড়ালে যে এমন ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে ছিল, তা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।