দুর্গাপুর: আরও একবার চেনা পরিচিতদের ওপর অন্ধ বিশ্বাস করার চরম ও মর্মান্তিক খেসারত দিতে হল এক নাবালিকাকে। দুর্গাপুরের অন্ডাল থানা এলাকায় এক ১৪ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার ভয়াবহতা ছড়ানোর মাঝেই অত্যন্ত প্রশংসনীয় তৎপরতা দেখাল পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মূল দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে অন্ডাল থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের আগামী ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা সম্ভব হয়।[TECHTARANGA-POST:9511]পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম সুরজ বাউরি এবং বিশাল ডোম, যারা দু’জনেই অন্ডাল থানা এলাকারই বাসিন্দা। নাবালিকা ওই দুই যুবককে আগে থেকেই চিনত এবং প্রতিবেশীর মতোই তাদের ভরসা করত। গত রবিবার সন্ধ্যায় সেই চেনা পরিচিতির সূত্র ধরেই সুরজ ও বিশাল তাকে একটু ফাঁকা জায়গায় আসার কথা বলে। তাদের ওপর বিশ্বাস রেখে নাবালিকাটি নির্জন জায়গায় পৌঁছাতেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এই দুই নরপিশাচ। সেখানে তাকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পৈশাচিক অত্যাচারের পর কোনো রকমে নিজেকে বাঁচিয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে আসে নির্যাতিতা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনাটি জানায়।[TECHTARANGA-POST:9500]রবিবারের এই নারকীয় কাণ্ড সোমবার সকালে জানাজানি হতেই অন্ডাল থানা এলাকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন গ্রামবাসীরা। এরপর সোমবারই নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা অন্ডাল থানায় সুরজ ও বিশালের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সংবেদনশীলতা এবং গুরুত্ব বুঝে সাথে সাথেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামে পুলিশ বাহিনী। বিশেষ সূত্র মারফত খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই সুরজ ও বিশালকে তাদের গোপন আস্তানা থেকে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার