নয়াদিল্লি: রবিবারের ভোরে ওত পেতে ছিল চরম বিপর্যয়। কেরলের তিরুঅনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী ১২৪৩১ হজ়রত নিজ়ামউদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেস যখন তীব্র গতিতে ছুটছিল, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক ভয়াবহ কাণ্ড। মধ্যপ্রদেশের কোটা রেল ডিভিশনের অন্তর্গত লুনি এবং আলট রেলস্টেশনের মাঝে আচমকাই ট্রেনের বি ১ কোচে আগুন লেগে যায়। চোখের পলকে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও একটি কামরায়। ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। তবে রেলকর্মী ও চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য এড়ানো গেছে এক বড়সড় প্রাণহানি।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর সোয়া ৫টা নাগাদ প্রথম বি ১ কোচটি থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন ট্রেনের গার্ড। বিপদ বুঝেই তিনি কালবিলম্ব না করে লোকো পাইলটকে সতর্ক করেন। চালকও ঠান্ডা মাথায় দ্রুত ট্রেনটিকে লাইনের মাঝেই থামিয়ে দেন। ততক্ষণে বি ১ কোচের আগুন গ্রাস করেছে পাশের আরেকটি কামরাকেও। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগুনে ট্রেনের দু’টি কামরা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের ওভারহেড তারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। বি ১ কোচে সেই সময় ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। আগুন আরও ছড়ানোর আগেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ওই দুই কামরার সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে বাইরে বার করে আনা সম্ভব হয়।কোটা রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবীন্দ্র লাকড়া জানিয়েছেন, সমস্ত যাত্রী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন, কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। আগুন যাতে ট্রেনের বাকি অংশে ছড়াতে না পারে, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কামরা দু’টিকে মূল ট্রেন থেকে দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর ওই যাত্রীদের ট্রেনের অন্য কামরাগুলিতে বসিয়ে কোটা স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কামরা জুড়ে তাঁদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করানো হবে। কিন্তু সুরক্ষিত এই ভিআইপি ট্রেনে কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের জেরেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার