গ্রেপ্তারির মেঘ কাটিয়ে ৩ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরোলেন অরূপ! এবার কোন গোপন আস্তানায় প্রাক্তন মন্ত্রী?
সল্টলেক: সওয়া তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার জেরা শেষে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে বাইরে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিশ্বফুটবলের মহানায়ক লিওনেল মেসির কলকাতা সফর সংক্রান্ত কোটি কোটি টাকার টিকিট কেলেঙ্কারি এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল ভাঙার মারাত্মক অভিযোগে বৃহস্পতিবার তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করলেন তদন্তকারীরা। গোটা জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গোপনে ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। তবে থানা থেকে বেরোলেও এখনই পুরোপুরি রেহাই পাচ্ছেন না এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা। আগামী ২২ জুন তাঁকে ফের সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ৩ বারের নোটিস এড়িয়ে আচমকা গোপন আস্তানা থেকে এদিন সকালেই উদয় হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য এবার কোথায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।[TECHTARANGA-POST:10065]বিগত কয়েক দিন ধরেই কার্যত ‘বেপাত্তা’ ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। পুলিশ একের পর এক নোটিস পাঠালেও তিনি হাজিরা এড়াচ্ছিলেন, যার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর গ্রেপ্তারির তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার ঠিক সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এসে পৌঁছন তিনি। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মন্ত্রী যে আজই আত্মসমর্পণ করার মতো করে জেরার মুখোমুখি হতে পারেন, তার একটা ইঙ্গিত বুধবার রাতেই সমাজমাধ্যমে দিয়ে রেখেছিলেন মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। সেই অনুযায়ী সকাল থেকেই থানা চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেই কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপেই অবশেষে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন রক্ষাকবচ প্রাপ্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:10059]গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই খাস কলকাতায় লিওনেল মেসির আগমন এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে উত্তাল বাংলা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ ছিল, মেসির মেগা সফরের জন্য মোট ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গায়ের জোরে একাই ২২ হাজার টিকিট হাতিয়ে নিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস এবং পরে তা চড়া দামে অন্যত্র বিক্রিও করা হয়েছিল! শুধু তাই নয়, বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্রের জন্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক স্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকলও প্রাক্তন মন্ত্রী মানতে চাননি বলে অভিযোগ। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছে, তবে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার কড়া নির্দেশ রয়েছে আদালতের। আর সেই আইনি বাধ্যবাধকতার জেরেই অবশেষে সওয়া তিন ঘণ্টার জেরা সামলালেন অরূপ।