Hidden Stories (বাংলা)

ভোটের লড়াইয়ে জিতেও হার মানলেন নিয়তির কাছে! চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন নন্দলাল বসুর নাতি

শান্তিনিকেতন: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ হস্তক্ষেপে ভোট দিতে পেরে মুখে ফুটেছিল জয়ের হাসি। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শান্তিনিকেতনে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। ভোট দেওয়ার কিছুদিন পরেই চিরতরে চোখ বুজলেন আচার্য নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন। সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শান্তিনিকেতনের বিশিষ্ট মহলে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9660]নন্দলাল বসুর ছোট মেয়ে যমুনা সেনের পুত্র সুপ্রবুদ্ধ সেন ছিলেন শান্তিনিকেতনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর বিশ্বভারতী থেকে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। এরপর ডিভিসিতে (DVC) দীর্ঘ ৩২ বছর সুনামের সঙ্গে চাকরি করে ১৯৯৬ সাল থেকে শান্তিনিকেতনের পৈতৃক বাড়িতে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। জীবনের প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দেওয়া এই প্রবীণ নাগরিকই সম্প্রতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক চরম প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েন। রাজ্য জুড়ে শোরগোল ফেলা এসআইআর (SIR) ভোটার তালিকায় তাঁর, তাঁর স্ত্রী দীপা সেন এবং পরিচারক চক্রধর নায়কের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ চলে যায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হলে, বয়সজনিত কারণে নির্বাচন আধিকারিকরা সুপ্রবুদ্ধবাবুর বাড়িতে এসেই শুনানি করেন। সেই সময় তিনি নিজের মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও চাকরির সমস্ত বৈধ নথিপত্র দেখালেও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন তিনি। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানির সময়েও নন্দলাল বসুর নাতির নাম বাদ পড়ার এই চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গটি উঠেছিল।[TECHTARANGA-POST:9659]আইনি ও প্রশাসনিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই গত ২৩ এপ্রিল বোলপুরের নির্দিষ্ট ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন সুপ্রবুদ্ধবাবু ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায় সেদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল। অবশ্য সংবাদমাধ্যমের আলোড়ন এবং শেষমেশ নির্বাচন কমিশনের বিশেষ তৎপরতায় এই জটিলতা কাটে এবং তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। রবিবার আচমকা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে জিতলেও, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন শান্তিনিকেতনের এই প্রবীণ বাসিন্দা।

ভোটের লড়াইয়ে জিতেও হার মানলেন নিয়তির কাছে! চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন নন্দলাল বসুর নাতি

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার