কলকাতা ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা! বিতর্কিত কবিতা মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন শ্রীজাতর
কৃষ্ণনগর: বছর কয়েক আগে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘অভিশাপ’ কবিতাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রায় আটবছর আগের সেই বিতর্কিত কবিতা কেন্দ্র করে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার মামলায় অবশেষে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন পেলেন বিশিষ্ট কবি। শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন জানান তিনি। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ২ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে কবির আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও, তাঁর উপর বেশ কিছু কঠোর প্রশাসনিক শর্ত আরোপ করেছে।[TECHTARANGA-POST:9196]আদালতের জামিনের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে বিচারকের আগাম অনুমতি ছাড়া কৃষ্ণনগর এবং কলকাতার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে যেতে পারবেন না কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে গত ২০ এপ্রিল হঠাৎ করে কবির বিরুদ্ধে আদালতের তরফে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Warrant) জারি হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতি ও সংস্কৃতিমহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। একযোগে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের একাংশ বুদ্ধিজীবীরা।[TECHTARANGA-POST:9195]মামলার বিবরণী থেকে জানা যাচ্ছে, বিগত ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের পর কবি শ্রীজাত তাঁর ফেসবুক পেজে ‘অভিশাপ’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগ, সেই কবিতার ছত্রে ছত্রে সনাতনী ভাবাবেগে চরম আঘাত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কবিতার একটি নির্দিষ্ট লাইনে ‘শিবলিঙ্গ’কে ঘিরে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।[TECHTARANGA-POST:9194]এই ইস্যুতেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কৃষ্ণনগর আদালতে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে প্রথম আইনি মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রোমিত শীল। এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের পক্ষ থেকে এর আগে একাধিকবার কবিকে সমন পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরা দেননি। ফলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতমাসে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে বাধ্য হয় আদালত।[TECHTARANGA-POST:9193]শনিবার মামলার শুনানি চলাকালীন কবি আদালতের নির্দেশ মেনে সশরীরে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে, তার তীব্র বিরোধিতা করেন মামলাকারী আইনজীবী রোমিত শীল। তাঁর যুক্তি ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আদালতের সমন ও আইনি নির্দেশ সম্পূর্ণ অমান্য করেছেন। তাই কোনও মতেই যেন তাঁকে জামিন দেওয়া না হয়। তবে, আদালত শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিনের পথেই হাঁটে।[TECHTARANGA-POST:9192]এই ঘটনা কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে দ্বিমুখী চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের সংস্কৃতিমহলের একাংশের মতে, আটবছর আগের একটি কবিতা নিয়ে এভাবে কবিকে হেনস্থা করা আসলে মানুষের বাকস্বাধীনতার (Freedom of Speech) উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির দাবি, হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের গুরুতর অভিযোগকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েই আদালত এই পদক্ষেপ করেছে।[TECHTARANGA-POST:9191]উল্লেখ্য, এই কবিতাটি প্রকাশের পর থেকেই শ্রীজাতর উপর নানাবিধ চাপ তৈরি হয়েছিল। ফেসবুক থেকে তাঁর কবিতা তুলে নেওয়া, কবিকে প্রাণে মারার হুমকি থেকে শুরু করে একাধিক থানায় এফআইআর (FIR) — বাদ যায়নি কিছুই। আপাতত জামিন মিললেও এই দীর্ঘ আইনি লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, নজর থাকবে সেদিকেই।