বিস্ফোরক তৃণমূল! ছবি দেখিয়ে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ‘কীর্তি’ ফাঁস করলেন ব্রাত্য-সায়নী, কাঠগড়ায় অমিত শাহ
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে নজিরবিহীন প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ সায়নী ঘোষ ছবি ও তথ্য সম্বলিত পোস্টার দেখিয়ে চারজন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষককে ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ’ বলে দাগিয়ে দিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরামর্শেই বেছে বেছে এই আধিকারিকদের বাংলায় পাঠিয়েছে কমিশন।[TECHTARANGA-POST:7605]পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘EXPOSE’ রিপোর্ট:তৃণমূলের পক্ষ থেকে চারজন আধিকারিকের নাম ও তাঁদের অতীত রেকর্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে:[TECHTARANGA-POST:7603]১. অজয় কাটেসারিয়া (বনগাঁ দক্ষিণ): ব্রাত্য বসুর দাবি, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের আমলে অজয় কাটেসারিয়ার বিরুদ্ধে ৪০ একর সরকারি জমি টেন্ডার ছাড়াই বিলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। শিবরাজ সিং চৌহানের নির্দেশে গঠিত কমিশনে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও পরবর্তীতে বিজেপি সরকারই তাঁকে ‘ক্লিন চিট’ দেয়। ব্রাত্যর প্রশ্ন, যাকে এক বিজেপি সরকার অভিযুক্ত করে, অন্য বিজেপি সরকার তাকে ছাড় দেয় কেন?২. ধীরজ কুমার (গাজোল): মহারাষ্ট্রের হেলথ কমিশনার থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ৮ হাজার কোটি টাকার অ্যাম্বুলেন্স টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, মাত্র ৮ দিনের নোটিশে টেন্ডার ডেকে জনৈক রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়কে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7600]৩. অজয় ডাকুয়া (মধ্যমগ্রাম): ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে (CMO) কর্মরত এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক অফিসের সঙ্গে মন্ত্রীর দপ্তরের লিয়াজোঁ বা যোগসূত্র হিসেবে কাজ করতেন, যা তাঁর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।৪. গান্ধম চান্দ্রুদু (বালিগঞ্জ): তৃণমূলের অভিযোগ, এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে অন্ধ্রপ্রদেশে পণ সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা এবং আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে সরাসরি ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ আমলা’ বলে দাবি করেছে শাসকদল।[TECHTARANGA-POST:7595]সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু খোঁচা দিয়ে বলেন, "নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এমন বার্তা দিচ্ছেন যেন ২৯৪টি আসনেই তিনিই প্রার্থী।" অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে কমিশন বাংলায় ‘দাগি’ ও ‘ঘনিষ্ঠ’ আমলাদের পাঠাচ্ছে বলে দাবি করেন সায়নী ঘোষও। তৃণমূলের দাবি, এই পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়া সম্ভব নয়। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে নালিশ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির।