লাইনে দাঁড়িয়ে রিলস ও স্টান্টবাজির খেসারত! পূর্ব রেলের সাঁড়াশি অভিযানে তিন মাসে গ্রেফতার ৮৫৩ জন
কলকাতা: সমাজমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা ও ভিউ পাওয়ার মারাত্মক নেশায় এবার সরাসরি রাশ টানল পূর্ব রেল। রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রিলস শুট, স্টান্টবাজি ও বেআইনিভাবে লাইন পারাপারের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মাত্র তিন মাসে গ্রেফতার করা হলো ৮৫৩ জনকে। আসানসোল, হাওড়া, মালদহ টাউন ও শিয়ালদহ—এই চারটি ডিভিশন জুড়ে গত ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত লাগাতার নজরদারি চালিয়ে ৮২৮টি প্রসিকিউশন মামলা নথিভুক্ত করেছে রেল পুলিশ। বারবার ফুট ওভারব্রিজ, রোড ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহারের আবেদন জানানো সত্ত্বেও বহু মানুষ এখনও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রেললাইন পারাপার করছেন। সতর্কতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা দেওয়ায় কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে রেল কর্তৃপক্ষ।[TECHTARANGA-POST:12022]সাম্প্রতিক সময়ে রেললাইনকে কার্যত শুটিং স্পটে পরিণত করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা চোখে পড়ছে। উল্টোদিক থেকে ধেয়ে আসা ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে রিলস বানানো, ট্রেনের সঙ্গে দৌড়ে স্টান্ট প্রদর্শন, এমনকি রেললাইনে বিয়ের প্রি-ওয়েডিং শুটের মতো চরম অসচেতন কাজকর্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই ধরনের দুঃসাহসিক স্টান্ট বহু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রেললাইন কখনওই সমাজমাধ্যমের রিলস বানানো বা ফটোশুটের মঞ্চ নয়। এক মুহূর্তের সামান্য ভুল বা অসাবধানতা চিরতরে একটি তরতাজা ও অমূল্য প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।[TECHTARANGA-POST:12007]বিপজ্জনক নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পূর্ব রেলের আইজি-তথা-প্রধান মুখ্য নিরাপত্তা কমিশনার অমিয়নন্দন সিনহা প্রতিটি ডিভিশনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে আইন প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। রেললাইনের ওপর যে কোনও ধরনের অননুমোদিত যাতায়াত এবং প্রাণঘাতী সোশাল মিডিয়া স্টান্ট রুখতে প্ল্যাটফর্ম ও ট্র্যাকের আশেপাশে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ট্র্যাকে নেমে রিলস বা ভিডিও বানানোর চেষ্টা করলে সরাসরি আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।