সোমেই বিধানসভায় ইউসিসি বিল! শুভেন্দুর মেগা চাল রুখতে একজোট ঋতব্রত ও কালীঘাট শিবির
কলকাতা: আগামীকাল, সোমবারই কি পশ্চিমবঙ্গের বুকে ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এখন একটাই জোর চর্চা— সপ্তাহের প্রথম দিনই রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে পারে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বহুপ্রতীক্ষিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউসিসি (UCC) বিল। আসাম, উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটের পর চতুর্থ রাজ্য হিসেবে এবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকারও বাংলায় এই আইন কার্যকর করতে মরিয়া। তবে সরকারের এই মেগা চালের মুখে দাঁড়িয়ে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তুমুল ঝড় তুলতে কোমর বাঁধছে বিরোধী শিবির। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলগত কোন্দলে জর্জরিত জোড়াফুলের দুই বিবদমান পক্ষ— ‘ঋতব্রত শিবির’ এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’— এই বিলের বিরোধিতায় একসুরে রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছে। ফলে সোমবার বিধানসভার অধিবেশন যে চরম উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:10365]বিধানসভার অন্দরমহল সূত্রে খবর, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পাশাপাশি সোমবার বিধানসভায় আসতে পারে কড়া ‘গুন্ডাদমন বিল’-ও। সরকারের এই জোড়া বিল পেশের সম্ভাবনা তৈরি হতেই নবান্ন এবং বিধানসভায় যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার আসাম, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাট থেকে ইউসিসির মূল কপি বাংলায় আনিয়েছে শুভেন্দু সরকার। আইন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা সেই আইনের প্রতিটি ধারা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। বিরোধীরা ঠিক কোন কোন বিষয়ে প্রশ্ন বা আপত্তি তুলতে পারেন, তার প্রতিটির আইনি জবাব ইতিমধ্যেই তৈরি করে রাখা হয়েছে। বিলটি পেশের জন্য অধিবেশনের দ্বিতীয় অর্ধে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বলার জন্য বিশেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে। সরকারপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস, সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখেই এই বিল আনা হচ্ছে এবং এটি নির্বিঘ্নে পাস হয়ে আইনে পরিণত হবে।[TECHTARANGA-POST:10364]অন্যদিকে, সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক রুখতে কোমর বাঁধছে বিরোধী পক্ষ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউসিসি ও গুন্ডাদমন বিলের মতো জনবিরোধী সমস্ত পদক্ষেপের তাঁরা তীব্র বিরোধিতা করবেন। অন্য তিন রাজ্যে এই আইন পাসের সময় বিরোধীরা কী কী খামতি তুলে ধরেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে ঋতব্রত শিবির। বিশেষ করে বাংলার বিপুল সংখ্যক মুসলিম, জৈন, শিখ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মতো সংখ্যালঘুদের স্বার্থে এই বিলের তাৎক্ষণিক বিরোধিতা কীভাবে করা হবে, তার একটি নিখুঁত রোডম্যাপ তৈরি করে ফেলেছে তারা। পিছিয়ে নেই কালীঘাট তৃণমূলও; সোমবারের মেগা বিতর্কে দলের তরফে ঝাঁঝালো বক্তব্য রাখতে প্রস্তুত হচ্ছেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ।[TECHTARANGA-POST:10363]রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য বিধানসভার একটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানোর রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর এখনও কোনও স্থায়ী স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত না হওয়ায়, এই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিধানসভায় একটি বিশেষ সিলেক্ট কমিটি গঠন করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, সেই হাই-প্রোফাইল কমিটির মাথায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থাকতে পারেন। একদিকে বাংলার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ওপর ইউসিসির প্রভাব খতিয়ে দেখার সরকারি যুক্তি, অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দাবিতে বিরোধীদের তুমুল প্রতিরোধ— সব মিলিয়ে সোমবারের বিধানসভা এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মহাযুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে।