মাত্র ৫ দিনেই বিজেপিকে গোল দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’! কটাক্ষের পরেই কি ওড়ানো হলো এক্স অ্যাকাউন্ট?
নয়াদিল্লি: দেশের প্রধান বিচারপতির একটি ‘কটাক্ষমূলক’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্রেফ ক্ষোভের বশে আত্মপ্রকাশ করেছিল একটি পেজ। কিন্তু কে জানত, জন্মের মাত্র পাঁচদিনের মাথায় সেই পেজই টেক্কা দিয়ে দেবে দেশের তাবড় শাসক দলকে! সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে হুহু করে লাইমলাইটে চলে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরিসংখ্যান বলছে, আত্মপ্রকাশের মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে এই অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা ১২.৮ মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ২৮ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। [TECHTARANGA-POST:9336]যেখানে খোদ শাসক দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৮.৭ মিলিয়ন বা ৮৭ লক্ষ, তাকে অনায়াসেই পিছনে ফেলে দিয়েছে এই পেজ। এমনকি ১৩.২ মিলিয়ন ফলোয়ার থাকা কংগ্রেসের ঘাড়ের ওপরও নিঃশ্বাস ফেলছে এই নতুন ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু এই তুমুল জনপ্রিয়তার পরেই তৈরি হলো এক চরম বিতর্ক। দেশের শাসক দলকে ট্রোল করার অপরাধেই কি তবে কোপ পড়ল এই পেজের ওপর? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটপাড়ায়।[TECHTARANGA-POST:9334]ইন্সটাগ্রামে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরেই একটি বিশেষ পোস্ট করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা টপকে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি সরাসরি কটাক্ষের সুরে লেখেন, “বিজেপি নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম পার্টি হিসেবে দাবি করে। কিন্তু ওদের টপকে যেতে আমাদের মাত্র চারদিন সময় লাগল। দেশের যুবশক্তির ক্ষমতাকে এভাবে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।” এই বিস্ফোরক পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে এক নাটকীয় পটপরিবর্তন। আচমকাই দেখা যায়, মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল হ্যান্ডেলটি। প্রাথমিক সূত্রে খবর, সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি কারণ দেখিয়ে ভারতে এই অ্যাকাউন্টটি আপাতত সাসপেন্ড বা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9331]নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট এভাবে আচমকা সাসপেন্ড হতেই ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পেজের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। ক্ষুব্ধ অভিজিতের প্রশ্ন, কেন কোনও কারণ না দর্শিয়ে এভাবে তাঁদের অ্যাকাউন্টটি রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হলো? তাঁর দাবি, এই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও অন্যায় বা উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়নি, দেশের আইন মেনে স্রেফ কিছু সামাজিক ইস্যুতে পোস্ট করা হয়েছিল মাত্র। তাহলে কেন এভাবে তাঁদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে? যদিও এই অ্যাকাউন্ট বাতিলের পেছনে আসল কারণ কী, বা সরকারের কোনও অদৃশ্য হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কারও কোনও জবাব মেলেনি। তবে পাঁচ দিনের একটি পেজের কাছে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের ডিজিটাল ময়দানে এই ‘হার’ এবং তার পরেই অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।