হাওয়ালা কারবার থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, অবশেষে নাটকীয়ভাবে ইডি দফতরে হাজির ফেরার ‘সোনা পাপ্পু’!
কলকাতা: গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চোখে ধুলো দিয়ে বেপাত্তা থাকার পর, অবশেষে সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে সশরীরে হাজির হলেন দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত সিন্ডিকেট ডন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। রবীন্দ্র সরোবরের একটি গন্ডগোলের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর থেকেই তাঁর খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি। মাঝেমধ্যে আড়াল থেকে ফেসবুক লাইভে এসে হুঙ্কার দিলেও তদন্তকারীরা তাঁর নাগাল পাচ্ছিলেন না। [TECHTARANGA-POST:9237]সোমবার আচমকাই ইডি দফতরে প্রবেশের সময় পাপ্পু অবশ্য বুক ঠুকে দাবি করেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি, জীবনে কোনোদিন তোলাবাজিও করিনি। আমার সোনার দোকান রয়েছে, কোনো থানায় আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজির রেকর্ড নেই।” যদিও ইডি সূত্রের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বালিগঞ্জ ও কসবা এলাকার জমি দখল, হুমকি ও বেআইনি সিন্ডিকেট রাজ নিয়ন্ত্রণের একাধিক এফআইআর রয়েছে তাঁর নামে। এমনকি গত এপ্রিলে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করে ইডি, যা ব্যবসায়ী জয় কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। [TECHTARANGA-POST:9212]এই মামলায় ইতিমধ্যেই বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের দাপুটে আধিকারিক শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে ইডি। দীর্ঘদিন খোঁজ না মেলায় তদন্তকারীদের অনুমান ছিল, ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়ে হাওয়ালা মারফত অর্থের জোগান পাচ্ছিলেন পাপ্পু। গা ঢাকা দিয়ে থাকার সময়ই ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। অবশেষে এই হাইপ্রোফাইল মামলার মূল পাণ্ডা নিজেই ইডি দফতরে এসে আত্মসমর্পণ করায়, এবার কলকাতার কোটি কোটি টাকার সিন্ডিকেট ও হাওয়ালা সাম্রাজ্যের কোন কোন রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।