Hidden Stories (বাংলা)

২০ লক্ষের ‘চাকরি কেলেঙ্কারি’! ধৃত তৃণমূল নেতার পর এবার কি শ্রীঘরে পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ?

পাণ্ডবেশ্বর: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতি ও আর্থিক প্রতারণার মামলা রুজু হওয়া যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে এলাকার বেকার যুবকদের কাছ থেকে অন্তত ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মস্ত বড় অভিযোগ উঠল পাণ্ডবেশ্বরের হেভিওয়েট প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই পাণ্ডবেশ্বর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘ দিন ধরে ঘুরিয়েও চাকরি না হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এই মারাত্মক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9361]থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, পাণ্ডবেশ্বর থানার জোয়ালভাঙা গ্রামের বাসিন্দা খগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে প্রথম পরিচয় হয়েছিল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর। খগেন্দ্রনাথ বাবুর দাবি, পরিচয়ের পর একপ্রকার গায়ের জোরেই অর্থের বিনিময়ে এলাকার ১৫ জন যুবককে রেলে ও অন্যান্য সরকারি দফতরে চাকরি দেওয়ার টোপ দেন বিধায়ক। প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৩০ লক্ষ টাকা তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো যুবকদের পরিবার সোনার গয়না বন্ধক রেখে ও ধারদেনা করে ধাপে ধাপে ২০ লক্ষ টাকা জোগাড় করে বিধায়কের হাতে সরাসরি তুলে দেয়। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কারও চাকরি হয়নি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তা দিতে নানা অজুহাতে অস্বীকার করেন বিধায়ক। চাকরি না হওয়া এবং টাকা মার যাওয়ায় ১৫টি পরিবারের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে এবং তারা চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে।[TECHTARANGA-POST:9359]অন্যদিকে নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি জারি করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর সাফ দাবি, "আমাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমি বিধায়ক থাকাকালীন নিজের সামর্থ্য মতো সব মানুষের কাজ করেছি। আমার দরজায় সাহায্য চেয়ে যারা এসেছে, কাউকেই আমি কখনো খালি হাতে ফেরাইনি। নতুন সরকারের জমানায় স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই আমার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।" পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9358]পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে এই তোলপাড় করা অভিযোগের মাঝেই, দুর্গাপুরের ফরিদপুরে লাউদোহা এলাকায় এক বিরাট সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণা, এলাকায় দিনের পর দিন সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাস তৈরি এবং ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথ জ্যাম করার গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের দাপুটে ব্লক সভাপতি শেখ ওয়াসুলকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে তাঁকে ডেরা থেকে গ্রেফতার করে। আজ শুক্রবার সকালে ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ধৃত তৃণমূল নেতা শেখ ওয়াসুল অবশ্য দাবি করেছেন যে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সততার সঙ্গে রাজনীতি করছেন এবং কারও সাথে কোনো দুর্ব্যবহার করেননি। রাজ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চালু হতেই যেভাবে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক থেকে ব্লক সভাপতিদের একের পর এক কীর্তি ফাঁস হচ্ছে, তাতে চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।

২০ লক্ষের ‘চাকরি কেলেঙ্কারি’! ধৃত তৃণমূল নেতার পর এবার কি শ্রীঘরে পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার