‘তৃণমূলই জিতছে, বিজেপি হারছে’! মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দাবি মমতার
কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা যুদ্ধের দ্বিতীয় দফায় বুধবার দুপুরে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিয়ে বেরিয়েই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দেখা গেল তৃণমূলনেত্রীকে। তাঁর সাফ দাবি, এবারও বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে ঘাসফুল শিবির। তবে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলেও, এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:8542]মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলই জিতছে। বিজেপি হারছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হবে তৃণমূলের।” জয়ের ভবিষ্যৎবাণী করার পাশাপাশিই তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে তাঁর নিজের এলাকা ভবানীপুরে সাধারণ মানুষের উপর বলপ্রয়োগ করছে বাহিনী।[TECHTARANGA-POST:8540]মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “সিআরপিএফ আমাদের লোকজনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। বাচ্চাদের মেরেছে, মেয়েদের মেরেছে। কী যে করছে, ভাবতে পারবেন না। এটা সরাসরি আদালত অবমাননা। আমার পাড়ার লোক, সাধারণ মেয়েদের ওপর ওরা হাত তুলেছে। এটা কি ওদের ডিউটি? ওরা এটা করতে পারে না।” শুধু ভবানীপুর নয়, আরামবাগ, খানাকুল ও গোঘাটেও কেন্দ্রীয় বাহিনী অতি-সক্রিয়তা দেখাচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:8539]এদিন সকালে ভবানীপুর ও কালীঘাট এলাকায় উত্তেজনার যে ছবি ধরা পড়েছিল, তার প্রেক্ষিতে মমতার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে যখন তিনি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত থাকার বার্তা দিয়ে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচন কমিশন ও বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতান্ত্রিক লড়াইকে আরও তীব্র করেছেন।[TECHTARANGA-POST:8538]দ্বিতীয় দফার এই হাইপ্রোফাইল পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর ভোটদান এবং তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে বিকেলের দিকে রাজনীতির পারদ আরও চড়েছে। এখন দেখার, মমতার এই ‘দুই-তৃতীয়াংশ’ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রতিফলিত হয়।