রথের সকালেই শিউরে ওঠা কাণ্ড! দিঘা যাওয়ার পথে ৪ জনের মর্মান্তিক পরিণতি, রক্তে ভাসল জাতীয় সড়ক
পূর্ব মেদিনীপুর: রথের পুণ্যতিথিতেই দিঘা যাওয়ার পথে নেমে এল চরম বিপর্যয়। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল কান্নায়। দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে ঘটল এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন এবং গুরুতর জগত আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিনজন। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ইতিমিধ্যেই পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।[TECHTARANGA-POST:10986]পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রথযাত্রার ভোরে হাওড়া থেকে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একটি বেসরকারি দূরপাল্লার বাস। কিন্তু ভোররাতে দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কের হেঁড়িয়ার কাছে পৌঁছাতেই বাসটিতে হঠাৎ কিছু যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। গাড়িটি ঠিক করার জন্য রাস্তার একপাশে বাসটিকে দাঁড় করান চালক। বাসের সমস্যা ঠিক কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে বাস থেকে নিচে নামেন চালক, বাসের মালিক এবং খালাসিরা। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির লরি এসে সজোরে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছনে। লরির ধাক্কায় বাসের নিচে ও পাশে থাকা চারজন পিষ্ট হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।দীঘার রথযাত্রায় ভক্তির জোয়ারভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বিকট শব্দ শুনেই ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই তড়িঘড়ি খবর দেন পুলিশে। খবর পেয়ে খেজুরি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্তদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম তপন দাস (বাস মালিক, বাসিন্দা বাজকুল), শিবব্রত পট্টনায়েক (বাস চালক, বাসিন্দা দিঘা), অশোক মাইতি (হেলপার, বাসিন্দা ভূপতিনগর) এবং শুভদীপ মণ্ডল (হেলপার, বাসিন্দা বাজকুল)। এছাড়া বাকি ৩ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তমলুক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘাতক লরিটিকে আটক করেছে পুলিশ।