ট্রেন্ডি ‘জেল নেল আর্ট’ করাচ্ছেন? সুন্দর নখের আড়ালে লুকিয়ে নেই তো স্বাস্থ্যঝুঁকি!
এককালে নখ সাজাতে কেবল নানা রঙের নেলপলিশই ছিল ভরসা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নখের রূপচর্চায় এসেছে বিরাট বদল। বাহারি নেলপলিশের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে নেল এক্সটেনশন, বিভিন্ন ডিজাইনের নেল আর্ট, এমনকি নখের জন্য বিশেষ গয়নাও। কাচের মতো চকচকে ভাব কিংবা চকচকে মেটালিক ফিনিশ পেতে আজকাল তরুণীদের প্রথম পছন্দ ‘নেলজেল’। জেলের এই বিশেষ পরত নখকে যেমন আকর্ষণীয় করে তোলে, তেমনই দেয় অতিরিক্ত মসৃণতা। ফলে ‘নেলজেল ম্যানিকিয়োর’-এর চাহিদাও এখন তুঙ্গে। তবে নখের এই কৃত্রিম সৌন্দর্যের আড়ালেই কি লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় স্বাস্থ্যঝুঁকি? সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই নেলজেলের মতো প্রসাধনী ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, আর এবার অন্যান্য গবেষণা সংস্থাও এই রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ে তীব্র সতর্কতা জারি করছে।জেল ম্যানিকিউরের সময় হাত বারবার UV বা LED ল্যাম্পের নিচে রাখতে হয়। এই ল্যাম্প থেকে মূলত UVA রশ্মি আসে। দীর্ঘদিন বারবার UVA-র সংস্পর্শে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, DNA ক্ষতি এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন।তবে নখের প্লেটের বেশিরভাগ অংশ UV রশ্মি পুরোপুরি শরীরে পৌঁছতে দেয় না। তাই কয়েকবার জেল ম্যানিকিউর করলেই বড় কোনও বিপদ হবে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। ঝুঁকির বিষয়টি মূলত বারবার এবং দীর্ঘদিনের এক্সপোজার।শুধু ক্যানসার বা TPO নয়, আরও সমস্যা হতে পারে। ঘন ঘন জেল বা অ্যাক্রিলিক নখ ব্যবহার করলে নখ পাতলা, দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। নখের চারপাশে চুলকানি বা লালচে ভাব হতে পারে। অ্যালার্জিক কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে। এছাড়াও হাত বা ঠোঁটের আশপাশে একজিমা দেখা দিতে পারে। নখের নিচে বা চারপাশে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। জেল বা অ্যাক্রিলিক তোলার সময় অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে নখের উপরিভাগ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাহলে কি জেল ম্যানিকিউর একেবারেই বন্ধ?না, আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করাই ভালো।পার্লারে যাওয়ার আগে দেখে নিন, নেল পলিশটি TPO-free কি না। খুব ঘন ঘন জেল ম্যানিকিউর না করে মাঝে নখকে কিছুদিন বিশ্রাম দিন। UV ল্যাম্পের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো যায়, সেটাও ভালো। আর ম্যানিকিউরের পর নখ বা ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, ফোলা, ব্যথা, নখের রং বদলে যাওয়া বা নখ ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে সেটিকে শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।