ট্রেডমিল থেকে নয়, এবার বাজেট মানুষের কথা শুনে! উত্তরকন্যা থেকে মমতার দলকে তীব্র খোঁচা বিজেপি অর্থমন্ত্রীর
শিলিগুড়ি: বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন। আগামী ২২ জুন বিধানসভায় এই ঐতিহাসিক বাজেট পেশ হওয়ার কথা। আর তার ঠিক আগেই উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচাতে এবং সেখানকার ব্যবসায়ী মহলের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে উত্তরকন্যায় এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রাক-বাজেট এই আলোচনায় উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য একগুচ্ছ ঢালাও প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেল তাঁর মুখে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় ম্যারাথন বৈঠক সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অর্থমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানাকে নিশানা করে তাঁর চাঁচাছোলা কটাক্ষ, ‘‘এবারই প্রথম সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলে প্রকৃত বাজেট হতে চলেছে। আগে তো রাইটার্স বা নবান্নে ট্রেডমিল হাঁটতে হাঁটতে বাজেট তৈরি হতো!”[TECHTARANGA-POST:9880]শুভেন্দু অধিকারী সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই বুধবার গভীর রাতে উত্তরবঙ্গে পৌঁছে যান স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর এই ঝটিকা সফরই স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নকে কতটা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের এই মেগা বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তারা। উত্তরবঙ্গের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কথা বিস্তারিত শোনেন মন্ত্রী। বিশেষ করে, জিএসটি (GST) সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের, কারণ সামান্য কাজের জন্যও তাঁদের এতদিন কলকাতায় ছুটে যেতে হতো। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অর্থমন্ত্রী এদিন এক বড়সড় আশ্বাস দিয়ে জানান, আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই তিনি উত্তরবঙ্গে একটি স্থায়ী ‘জিএসটি ট্রাইব্যুনাল’ তৈরির আইনি প্রস্তাব রাখবেন, যাতে ঘরের সমস্যার সমাধান ঘরেই করা যায়।[TECHTARANGA-POST:9879]জিএসটি-র পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড তথা ধুঁকতে থাকা চা বাগানের নানাবিধ সংকটের কথা অর্থমন্ত্রীর দরবারে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। আগামী দিনে কোন জাদুবলে এই চা শিল্পের সুদিন ফিরবে, তা নিয়ে এখনই খোলসা না করলেও স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন যে, অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ধাপে ধাপে চা বলয়ের সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে নতুন সরকার। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উৎস মালদহের বিখ্যাত আমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও চাঙ্গা করতে বাজেটে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ও প্রস্তাব রাখা হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‘প্রযুক্তিগতভাবে এটা আপাতত ৮ মাসের বাজেট হতে চলেছে। তবে এই প্রথম মানুষের মন, তাঁদের চাহিদা ও মাটির টান বুঝে বাজেট তৈরি হচ্ছে। আমাদের সরকার যে উত্তরবঙ্গকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে ও গুরুত্ব দেয়, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। এখন শুধু ২২ জুনের অপেক্ষা।” স্বভাবতই, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে উত্তরবঙ্গের ঝুলিতে ঠিক কী কী বড় প্রাপ্তি ঘটে, সেদিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।