Hidden Stories (বাংলা)

জাতীয় পতাকার পর এবার কি 'বন্দে মাতরম'? সংসদের বাদল অধিবেশনে কড়া বিল আনছে কেন্দ্র!

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে মোদী সরকারের তৃতীয় ইনিংসের রাশ আলগা তো দূর, উলটে আইন প্রণয়নে আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিচ্ছে কেন্দ্র। আসন্ন সংসদীয় বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই লোকসভার সচিবালয় থেকে জারি হওয়া বুলেটিন রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। লোকসভা সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার সংসদের টেবিলে একগুচ্ছ এমন বিল পেশ, আলোচনা ও পাশ করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার, যা দেশের একাধিক পুরনো আইনি পরিকাঠামোকে খোলনলচে বদলে দিতে পারে। তবে এই দীর্ঘ তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা নজর কেড়েছে, তা হলো ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। ১৯৭১ সালের পুরনো আইনকে সংশোধন করে এবার জাতীয় প্রতীক, সংবিধান, জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ তথা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রেও সাজার মেয়াদ আরও কঠোর করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে কেন্দ্র। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জাতীয়তাবাদ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিরোধীদের কোনও জমি ছাড়তে নারাজ মোদী সরকার।  কেন্দ্রের ঝুলিতে পাঁচ মোক্ষম বিল  লোকসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, আপাতত পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলকে আলোচনা ও পাশের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ সংক্রান্ত বিল, যা পাশ হলে দেরিতে জন্ম বা মৃত্যুর সার্টিফিকেট তোলার নিয়মকানুন আরও জটিল ও কঠোর হতে চলেছে। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত করতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্ষেত্রের উন্নয়ন, আয়কর আইন সংশোধন এবং দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলও রয়েছে সরকারের পাখির চোখ। এখানেই শেষ নয়, ইউজিসি ও এআইসিটিই-র মতো শীর্ষ উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে ভেঙে দিয়ে একটি একক সংস্থা গঠনের লক্ষ্যে আনা হচ্ছে ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল’। [TECHTARANGA-POST:11018]যদিও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রবল আপত্তির কারণে যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) রিপোর্ট জমা দেওয়ার ডেডলাইন ১৭ জুলাই থেকে পিছিয়ে আগামী ২০ জুলাই করা হয়েছে। এর সাথে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ বা এফসিআরএ সংশোধনী বিলও এই অধিবেশনেই পাশ করিয়ে নেওয়ার জন্য কোমর বাঁধছে শাসক শিবির।  রাশ আলগা করলেই শাস্তি! সাংসদদের কড়া বার্তা  বিল পাশের এই ঝড়ের সমান্তরালে, সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ বা হট্টগোল রুখতে এবার বেনজিরভাবে কড়া অবস্থান নিয়েছে লোকসভার সচিবালয়। অধিবেশন শুরুর আগেই প্রতিটি দলের সাংসদদের জন্য এক হাড়হিম করা আচরণবিধি বা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংসদ কক্ষের ভেতরে বা বাইরে কোনও রকম প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, বিক্ষোভ বা ধর্না প্রদর্শন করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দ্বারা তৈরি কোনও ছবি, ব্যঙ্গচিত্র, অবমাননাকর পোস্টার কিংবা স্লোগান ব্যবহারেও জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। সংসদের মূল গেটগুলির সামনে যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা প্রতিবাদী কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই কড়া বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট— এবার অধিবেশনে হইহট্টগোল করে বিল পাশ আটকানোর চেষ্টা করলে কড়া আইনি ও শৃঙ্খলাগত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বিরোধী সাংসদদের। 

জাতীয় পতাকার পর এবার কি 'বন্দে মাতরম'? সংসদের বাদল অধিবেশনে কড়া বিল আনছে কেন্দ্র!

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার