মায়ের বুকে ধারালো কোপ! ধূপগুড়িতে ক্লাস টেনের ছেলের ভয়ংকর কাণ্ড, আশঙ্কাজনক বাবা
ধূপগুড়ি: সোমবারের রাত যে এমন এক বীভৎস, হাড়হিম করা রক্তগঙ্গায় রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। নিজের ঘরেই জন্মদাত্রী মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করল দশম শ্রেণির এক পড়ুয়া। শুধু মা-ই নন, তাঁকে বাঁচাতে এসে পৈশাচিক হামলার শিকার হলেন বাবা সহ পরিবারের আরও তিন সদস্য। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জুরাপানি হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর নিজেকে শেষ করে দেওয়ার জন্য ওই নাবালক ঘাতক ছেলেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল policeবাহিনী।[TECHTARANGA-POST:9817]পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর রণিত সরকার স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। সোমবার রাত তখন আনুমানিক ৮টা। আচমকাই রণিত ধারালো একটি অস্ত্র উঁচিয়ে ঘরের ভেতর পরিবারের বাকি সদস্যদের ওপর চণ্ডী মূর্তি ধারণ করে চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে তার মা দীপালী সরকারকে লক্ষ্য করে একের পর এক কোপ মারতে শুরু করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মা চিৎকার করে উঠলে এবং স্ত্রীকে বাঁচাতে বাবা নেপাল সরকার ছুটে এলে, রণিত তাঁকেও এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। তরতাজা কিশোর ছেলের এমন হিংস্র রূপ দেখে পরিবারের বাকিরা বাঁচাতে এলে তাঁরাও গুরুতর জখম হন। বাড়ি থেকে ভেসে আসা একের পর এক আর্তনাদ আর গোঙানির আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রণিত নিজেকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।[TECHTARANGA-POST:9797]প্রতিবেশীরা কালবিলম্ব না করে ঘর থেকে সবাইকে উদ্ধার করে দ্রুত ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা রণিতের মা দীপালী সরকারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বাবা নেপাল সরকার সহ বাকি তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার খবর পেয়েই ধূপগুড়ি থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।[TECHTARANGA-POST:9800] অভিযুক্ত ছাত্র রণিত সরকারকেও পুলিশি হেফাজতে রেখে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে শান্ত স্বভাবের ক্লাস টেনের একটা ছেলে নিজের মা-বাবাকে এভাবে খুন করার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্যের পাহাড়। অনলাইন গেমের আসক্তি, নাকি পরিবারের অন্দরে লুকিয়ে থাকা কোনও গভীর অশান্তি— সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে প্রতিবেশীদের পাশাপাশি পরিবারের বাকি সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।