25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ গণতন্ত্রের প্রতি অন্যায়- বাংলায় ভোটারতালিকার ‘তড়িঘড়ি’ সংশোধন নিয়ে সরব অমর্ত্য সেন
পশ্চিমবঙ্গ

গণতন্ত্রের প্রতি অন্যায়- বাংলায় ভোটারতালিকার ‘তড়িঘড়ি’ সংশোধন নিয়ে সরব অমর্ত্য সেন

Share
Share

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারতালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়াটি যেভাবে ‘অযৌক্তিক তাড়াহুড়ো’র মধ্য দিয়ে করা হচ্ছে, তা সাধারণ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত।

৯২ বছর বয়সী এই ভারতরত্ন বর্তমানে বস্টনে রয়েছেন। সেখান থেকেই সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। গত ৭ জানুয়ারি শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’তে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁর নামে একটি শুনানির নোটিশ দিয়ে আসেন। কারণ হিসাবে জানানো হয়, নথিতে অমর্ত্য ও তাঁর মা অমিতা সেনের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম দেখাচ্ছে — যাকে কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিবিরোধী অসঙ্গতি বলছে। যদিও ২০০২ সালের ভোটারতালিকায় এই পার্থক্য স্পষ্টভাবেই ১৯ বছর ছিল!

অমর্ত্য সেনের পাল্টা প্রশ্ন, “যেখানে আমার মা নিজেও একজন ভোটার ছিলেন এবং তাঁর সমস্ত তথ্য কমিশনের রেকর্ডেই রয়েছে, সেখানে আমার জন্মের সময় তাঁর বয়স কত ছিল তা নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে কেন?” তিনি জানান, তাঁর ক্ষেত্রে বন্ধুরা সাহায্য করায় আইনি জটিলতা কেটেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য তিনি উদ্বিগ্ন। নোবেলজয়ীর কথায়, ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না। গ্রামীণ ভারতে জন্ম নেওয়া বহু মানুষের কাছেই বার্থ সার্টিফিকেট নেই। এই কঠোর নিয়ম গরিব ও প্রান্তিক মানুষকে ভোটারতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অমর্ত্য। নথিপত্র দেখানোর এই অতিরিক্ত কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত দরিদ্রদের বিরুদ্ধেই কাজ করবে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল (যেমন – বিজেপি) সুবিধা পাবে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে নোবেলজয়ী জানান, তিনি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নন। তবে তিনি স্পষ্ট বলেন, “কার লাভ হল সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল নির্বাচন কমিশনের কোনও ভুল ব্যবস্থার কারণে আমাদের গর্বের গণতন্ত্র যেন কোনও অপ্রয়োজনীয় ভুলের শিকার না হয়।”

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি অমর্ত্য সেনের শুনানির সময় তাঁর পারিবারিক বন্ধু গীতিকণ্ঠ মজুমদার নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন করেছিলেন, “এসআইআর-এর নথি হিসাবে কি ভারতরত্ন সাইটেশনটি কাজ করবে?” তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে, দেশের সর্বোচ্চ সম্মানপ্রাপক একজন ব্যক্তিত্বকেও তথ্যের দোহাই দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে!

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *