বর্ধমান: আনন্দ আর উদযাপনের আবহ নিমেষের মধ্যে ঢেকে গেল বুকফাটা কান্না আর বিষাদে। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ফটোগ্রাফারদের দল সঙ্গে করে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে যাচ্ছিলেন হবু বর-কনে। কিন্তু মাঝপথেই ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগামী স্করপিও ও বাইকের মুখোমুখি মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফোটোগ্রাফার এবং এক বাইক আরোহী। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ও আউশগ্রাম সীমান্তে ঘটে যাওয়া এই বীভৎস দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন হবু বর-কনে সহ আরও পাঁচজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহর এলাকা থেকে একটি স্করপিও গাড়িতে চড়ে আউশগ্রাম জঙ্গলমহলের মনোরম পরিবেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন হবু পাত্র-পাত্রী ও তাঁদের ফোটোগ্রাফি টিম। দুপুর ১২টা নাগাদ গাড়িটি ভাতার ও আউশগ্রামের মধ্যবর্তী ওড়গ্রাম ও ঝর্ণা বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই উল্টো দিক থেকে গুসকরায় কাপড়ের ব্যবসার কাজ সেরে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন ভাতারের ওড়গ্রামের বাসিন্দা বচ্চন সাউ। পথিমধ্যে হঠাৎই চারচাকা গাড়িটির সামনে একটি ছাগল চলে আসে। সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে বাইকটিতে। সংঘর্ষের তীব্রতায় স্করপিও গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েক বার পালটি খেয়ে রাস্তার ধারের গভীর নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাইক আরোহী বচ্চন সাউয়ের। এ ছাড়া চারচাকা গাড়িতে থাকা দুই ফটোগ্রাফার শেখ নাওয়াজ (বাড়ি বর্ধমানের কেশবগঞ্জ চটি) এবং মশাগ্রামের বাসিন্দা অপর এক ফটোগ্রাফারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। স্করপিও গাড়িতে মোট সাতজন সওয়ার ছিলেন, তাঁদের মধ্যে হবু বর-কনে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাতারের থানার পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকারীদের সহায়তায় আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হবু দম্পতির জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর ঠিক মুখে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তম্ভিত ও শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। দ্রুতগতির কারণে নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে এই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
Leave a comment