নয়াদিল্লি: বছরের পর বছর ধরে বন্যা ও গঙ্গা ভাঙনের জোড়া ফলায় জলযন্ত্রণা সহ্য করা দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য মিলল বড় স্বস্তির খবর। বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে এবার হাত মেলাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দেশের সেরা প্রযুক্তিবিদদের হাত ধরেই তৈরি হবে এই মাস্টার প্ল্যানের নকশা।
দিল্লির এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীরাও। গঙ্গার মারাত্মক ভাঙন রোধ, নদীখাত থেকে পলি উত্তোলন এবং আন্তঃরাজ্য নদী ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য দেশের দুই শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুর ও আইআইটি রূড়কি যৌথভাবে ব্লু-প্রিন্ট বা পরিকল্পনা তৈরি করবে। নদী ভাঙন আটকাতে মোট ১২টি বিশেষ ‘স্পার’ নির্মাণ করা হবে, যা জলপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে পার রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
শুধু ঘাটালই নয়, মালদহের ভূতনিচরের ভয়াবহ বন্যা ও গঙ্গার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরেই বর্ষায় মালদহের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, যা নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে রাজ্যের দাবি তুলে ধরা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে এবং রাজ্যের মানুষের সুরক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, চলতি আর্থিক বছরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন করে ফেলা হবে এবং সামগ্রিক প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ করা হবে। কাজের গতি ও তদারকি বজায় রাখতে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা ও দাসপুরের স্থানীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি বিশেষ নজরদারি দলও গঠন করা হয়েছে।
Leave a comment