কলকাতা: বুধবার বিকেলে ইডির জেরার মুখোমুখি হওয়ার পরই সিজিও কমপ্লেক্স চত্বর থেকে রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করল লালবাজারের গোয়েন্দা সেল। দীর্ঘদিনের পুজো ই-পাস দুর্নীতি মামলায় তাঁর সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগে এই গ্রেপ্তারির পরেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে দাপুটে মন্ত্রী থাকা ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলছিলেন কলাকুশলীরা। মাসকয়েক আগেই তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়া ও ‘মঞ্চ বিক্রি’র মতো মারাত্মক অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা মুখোপাধ্যায়রা। আর এবার প্রাক্তন মন্ত্রীর এই পতনের খবরে প্রকাশ্যেই নিজের উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করলেন গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গায়িকা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি মনে করি যে যা করবে সে তার ফল এ জীবনেই পেয়ে যাবে। এই গ্রেফতারে আমি ভীষণ খুশি।” ২৬ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীত কেরিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন সরকারের আমলে শিল্পীদের কোণঠাসা করা হতো এবং তাঁর মতো আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীকেও বিভিন্ন জায়গায় বয়কট বা ব্যান করার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, প্রশাসনের উচ্চপদে থেকে চাটুকারদের প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই আজ রাজ্যের সংস্কৃতি জগতের অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
তিলোত্তমার বুকে একসময় দাপিয়ে বেড়ানো এবং রাজনৈতিক ময়দানেও অত্যন্ত বর্ণময় ইনিংস খেলা ইন্দ্রনীল সেনের আজকের এই জেলবন্দি দশা বাংলা সংগীত মহলের সমীকরণে বড়সড় মোড় আনল। লালবাজার সূত্রে খবর, পুজো পাস নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির এই বিরাট কেলেঙ্কারির শিকড় ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে এখন জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
Leave a comment