শিলিগুড়ি: প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এক শিক্ষিকা। তাঁকে কোপানোর পর আত্মহত্যার চেষ্টায় বিষ পান করলেন অভিযুক্ত প্রৌঢ় নিজেও! বুধবার সকালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিক সামনে এই রক্তক্ষয়ী কাণ্ডকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়ির শান্তিনগর বৌবাজার সংলগ্ন এলাকায়। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ ১৫ বছরের দীর্ঘ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে শিক্ষিকার বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তই কি ডেকে আনল এই মর্মান্তিক পরিণতি? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকা জুড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জখম শিক্ষিকার নাম শিউলি দত্ত। তিনি বিবাহবিচ্ছিন্না এবং তাঁর এক প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেও রয়েছে। ছেলের সঙ্গে শান্তিনগর বৌবাজার এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন তিনি। বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন শিউলিদেবী।
অভিযোগ, সেই সময়েই আচমকা পিছন থেকে তাঁর ওপর হামলা চালান সজল দাস নামে প্রায় ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি চপার বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন সজলবাবু। রক্তের গঙ্গায় ভেসে যান শিক্ষিকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শিক্ষিকা ও সজল দাসের মধ্যে বিগত ১৫ বছর ধরে একটি ঘনিষ্ঠ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ছেলে বড় হয়ে ওঠায় এবং সামাজিক পারিপার্শ্বিকতার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি সেই সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি সরে আসতে চেয়েছিলেন শিউলিদেবী।
সম্পর্কের ইতি টানার এই সিদ্ধান্তই কাল হলো কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রহস্য। অনুমানের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিচ্ছেদের তিক্ততা ও আক্রোশ থেকেই কি সাতসকালে এই ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন সজলবাবু?
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শিক্ষিকাকে কোপানোর পরেই সঙ্গে সঙ্গে কীটনাশক পান করেন অভিযুক্ত প্রৌঢ় নিজেও। ঘটনার ভয়াবহতায় চ্যাঁচামেচি শুরু করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ভক্তিনগর থানার অন্তর্গত আশীঘর ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ তৎপরতায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকেই উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে দু’জনেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বিধায়কের বাড়ির অদূরেই এমন নৃশংস ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর না দিলেও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে আশীঘর ফাঁড়ির পুলিশ। ১৫ বছরের জটিল সম্পর্কের ইতি টানার চেষ্টা, না কি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
Leave a comment