সল্টলেক ও কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় অবশেষে গ্রেফতার করা হলো রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে।
বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) দফতরে হাজিরা দিয়ে বেরোনোর মুখেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় কলকাতা পুলিশের বিশাল দল। দীর্ঘদিন ধরেই লালবাজারের সমন এড়িয়ে চলছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই প্রাক্তন মন্ত্রী। অবশেষে বুধবার ইডি দফতর থেকে বেরোনোর সময় নাটকীয়ভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে সোজা লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্রের খবর, দুর্গোৎসবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও লোগো অপব্যবহার করে শহরের ২৪টি নামী পুজোয় ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে কোটি কোটি টাকার ভিআইপি পাস ও টিকিট বেআইনিভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল এবং তাঁর স্ত্রী পরিচালিত সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘মাস আর্ট’ নিজেদের ইউনেস্কোর অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে প্রচার করে ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে ১ লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি করে।
সেই টিকিট বিক্রির বিপুল টাকা নগদে তুলে কিংবা নানাবিধ ভুয়ো খরচ দেখিয়ে তছরুপ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। এমনকি এই বেআইনি লেনদেনের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টেও জমা পড়েছে বলে কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবিতে জানা গিয়েছে।
দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজো মিটতেই বুধবার ইন্দ্রনীলকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছিল ইডি। চার ঘণ্টা ধরে চলা জেরার মাঝেই সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে ও বাইরে লালবাজারের পুলিশের থিকথিকে ভিড় দেখে তাঁর গ্রেফতারির আঁচ পাচ্ছিলেন উপস্থিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। ইতিপূর্বেও একাধিকবার তাঁর বাসভবনে ইডি তল্লাশি চালায় এবং দু’দফায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয়।
গ্রেফতারির আশঙ্কায় লালবাজারের আর্জি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর সুপ্রিম কোর্টের দরজাতেও ধাক্কা খান তিনি। শীর্ষ আদালত থেকে কোনও আইনি সুরক্ষা না মেলায় বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে তাঁর আশঙ্কাই বাস্তবায়িত হলো। পুজো দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন এই প্রভাবশালী মন্ত্রীর গ্রেফতারিতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Leave a comment