কলকাতা: তিলোত্তমা তকমাকে নতুন রূপ দিতে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার যোগাযোগ ব্যবস্থায় জোয়ার আনতে এক অভূতপূর্ব মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করল রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সুদূর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এবার ডায়মন্ড হারবার থেকে সরাসরি কলকাতার প্রাণকেন্দ্র এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রো সংযোগের নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কলকাতা ও হাওড়াকে কেন্দ্র করে গঙ্গার দুই তীরকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলবর্তী অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ যানজট এড়িয়ে দ্রুত ও আরামদায়ক উপায়ে পৌঁছাতে পারবেন কলকাতায়।
গঙ্গার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মসৃণ যাতায়াতের জন্য দুই তীর বরাবর চার লেনের বিশাল হাইওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরদফতর। সাধারণ গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি এতে পথচারীদের হাঁটা এবং সাইকেল চালানোর জন্য সম্পূর্ণ পৃথক পথের সংস্থান থাকছে। এছাড়াও গঙ্গাপাড়ের ঐতিহাসিক ঘাট ও প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করা হবে। আধ্যাত্মিক পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে নবদ্বীপ ও মায়াপুরকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য ইতিমধ্যেই নবদ্বীপ পুরসভার সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “বাংলার ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত পরিষেবার মাধ্যমে কলকাতা, হাওড়া এবং নবদ্বীপকে বিশ্বমানের উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন:ইন্টারসিটি ট্রেনের কামরায় দেবী কালীর সফর, শান্তিপুরের নিপুণ প্রতিমায় মুর্শিদাবাদে আনন্দের জোয়ার
শুধু যাতায়াত নয়, ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া থেকে শুরু করে চায়না টাউন— বিদেশের উন্নত শহরের ধাঁচে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। পাশাপাশি শহরের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আধুনিক দৃষ্টিনন্দন দোকান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নতুন ফুড পার্ক, পরিকল্পিত বাজার ও রঙিন টেন্টের মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের উপার্জনের নতুন পথ খুলে দেওয়া হবে। যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসনের এই যৌথ উদ্যোগে তিলোত্তমার রূপ ও পরিকাঠামোয় এক বৈপ্লবিক বদল আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Leave a comment