কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED)-র ম্যারাথন জেরা শেষে বেরোতেই বাইরে ওত পেতে থাকা লালবাজারের বিশেষ দল তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আর এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির পরপরই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানালেন, “দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে নতুন সরকার। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে নিস্তার মিলবে না।”
সাংবাদিক বৈঠকে সুর চড়িয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, ইন্দ্রনীল সেন ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পাত্র। ফলে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ‘মাস আর্ট’-এর মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপ হয়েছে, তা মমতার অগোচরে ঘটা অসম্ভব।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “৬০ কোটি টাকারও বেশি এই বেআইনি টাকা কোনও পুজো কমিটির কাছে পৌঁছাল না, অথচ তৎকালীন প্রশাসন কেন তা জানতে পারল না?” শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “এই দুর্নীতির শিকড় যত গভীরেই থাকুক না কেন, যারাই এর নেপথ্যে মূল ‘মাথা’ হিসেবে কাজ করেছে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
উল্লেখ্য, বুধবার ইডি দফতরে হাজিরার আগে আইনি সুরক্ষার সবক’টি দরজাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইন্দ্রনীলের জন্য। গত ১৫ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে। এর পর শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেও গত ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শুনানি থেকে সরে দাঁড়ানোয় কোনো স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বুধবার তিনি ইডি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে বাধ্য হন।
কিন্তু দীর্ঘ জেরার পর সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে পা রাখতেই ঘটে নাটকীয় মোড়। বউবাজার থানা ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে থেকে তাঁকে আটক করে সরাসরি লালবাজারে নিয়ে যায়।
বর্তমানে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে চন্দননগরের এই প্রাক্তন বিধায়ককে। এই দুর্নীতির নেপথ্যে তৎকালীন সরকারের আর কোন কোন প্রভাবশালী যুক্ত ছিলেন, তার উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে ইন্দ্রনীলের এই গ্রেফতারি এবং শুভেন্দুর সরাসরি আক্রমণ রাজনীতির পারদকে একধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
Leave a comment