কলকাতা: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত বিজেপি নেতা খুনে অভিযুক্ত সামিউল শেখের এনকাউন্টার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। বুধবার রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কর্তব্যরত এক ডিএসপি (DSP) পদমর্যাদার অফিসারকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল অভিযুক্ত। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সিনিয়র অফিসারকে বাঁচাতে পাল্টা গুলি চালান এক ইন্সপেক্টর। সেই গুলিতেই প্রাণ হারায় সামিউল।
পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে সামশেরগঞ্জে বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) জন্য সামিউলকে দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় আচমকা এক পুলিশকর্মীর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে।
শুধু তা-ই নয়, সঙ্গে সঙ্গে অন-ডিউটি পুলিশকর্মীদের দিকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলিও চালায় সামিউল। দু’টি গুলিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সে সোজাসুজি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ডিএসপি-কে নিশানা করে। উর্ধ্বোতন অফিসারের প্রাণ সংশয় দেখে এক মুহূর্ত দেরি না করে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান পাশে থাকা ইন্সপেক্টর। মাথার পিছনের অংশে গুলি লাগায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে সামিউল। তড়িঘড়ি তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার একই দিনে রাজ্যে দু’টি এনকাউন্টারের ঘটনায় রাজনৈতিক শোরগোল চরম আকার ধারণ করেছে। সামশেরগঞ্জের কিছু আগেই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসও এনকাউন্টারে খতম হয়। সে ক্ষেত্রেও অস্ত্র ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
রাজ্যে পর পর জোড়া এনকাউন্টারকে মানবাধিকার সংগঠনগুলি ‘আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে সমালোচনা করলেও, পুলিশি পদক্ষেপের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, নারী নির্যাতন ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ বা পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, “বৃহত্তর জনস্বার্থের খাতিরে পুলিশকে মাঝে মাঝে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হয়।” অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী তথা পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি বিশেষ কবিতা পোস্ট করে এই এনকাউন্টারকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে সামশেরগঞ্জের এনকাউন্টার কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তরজা এখন তুঙ্গে।
Leave a comment